Skip to main content

Full text of "Shaktishel Ed. 2nd"

See other formats


| 


সস ফাসির 
ঠা 
ই 
ঠূ রহ -্টু 
সি 
চি 
রর 
নখ পে সি & 
০০০০ 
সনি 
পাপ 


রা টিটি এত দিন টির পি ঞ্ 
ব্জী চে 











ঞয শোদানন্দনসরকার 


মঙ্ক লিভ 


দ্বিতীয় সংস্করণ 


এ ৯ ০০০ ৭ ্ 


টি পো এ পিসি 
৯০ চট নিবলন, কস টে উস িসিলা কিউ হিলি সিএ 


কলিকাতা 





এ সি ৬ পা লি পাশ জী সী তি পি 


চোরবাগা।ন ছুবমমোকছন হন্দা।পাধায়ের জেন ৩০ নহ 


নিউসরর্কার্স প্রেসে মুদ্রিত। 


উপ পটার  া সিসপ৭ _  শা ৩৯৯ ৮৯১৫৮৯ +৮৭ 


সন ২৮২ দাল।! 





৯ জাজিরা নাজ 


48 





মূলয ১1০ টাকামাত্র।। 


শক্তিশেল। 


ভীম শোদানন্দ ন সরকার 


সঙ্কলিত 


দ্বিতীয় সংস্করণ 


কলিকাত। 


চোরবাগ।ন ভুবনমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেন ৬০ লহ 


নিউসরকাস প্রেসে মুদ্রিত। 


গান ১২৮২ সাল। 


০ 


রায়ের তালার সহিত বর্তমান ভাষার যে তাঁদৃশ বৈসাঁদৃশ্য নাই, এই 
কারযে” ন।ই | সংস্কত তাঁষার সমুদায় শব্দই বঙ্গল। ভাষায় আনিতে 
পারা না মুতরাঁং তহ্সমন্ত পরিবর্তন নছে। রাঁমমোছন রায় বু 
কাঁল পুচ র্ব'যে সকল সংস্ক, ত শব্দের প্রয়োগ করিয়া গিয়াছেন' আমর।ও 
বত্তমান সমপ্য়.ভবিকল তাহাই করিঘা থাকি । তবে, যে যে স্থলে তিনি 
২ন্কত বাকবণের সাগ্গাঘ্য না পাইয়া, আপনার বুদ্ধিতে লিখিয়া- 
ছেন, সেই সেই দ্থালেই উহার সহিত আমাদের যাহা কিছু অটনকা 
ঘটিয়া থাকে । এক্ষণে দেখ] উচিত, দে মকল কিরূপ স্থল | 'আমাঁদের 
ংল্কার আছে, বিভক্তি ও রুৎ স্থালেই এরূপ অনৈকা ঘটিয়া থকে | 
কারণ, বাঙ্গলা ভাষার মেই সেই স্থলেই কেবল সংস্ক.ত বাঁকরণের 
সাহায্য পাওয়। যায় না; অথবা পাইলে, বাজলার সহিত সংস্কতের 
কোন প্রভেদ থাকিতে পারিত না| রামতমাহন রায় মে স্থলে “এতৎ 
পদের? বলিয়াছেনঃ আমরা সে স্থলে "এই পদের বলিতে ভাল বালি, 
যে স্থলে আমারদিগের' বলিষাছেন, সে স্থলে ' আমাদিগের  এবহ যে 
গলে করতঃ? বলিয়াছেন আমর! মে স্থলে 'করিয়) বলিতে ভালবামি 
রামমোহন রায়ের সহিত আমাদের এ সকল অনৈক্য ঘটিব!র কারণ 
কি? প্রথম, াভার সময় শিক্ষিত লোঁক ছিল না, সুতা অনা কাহার 
কচির সাহায্য ন! পাইয়া, তাহাকে কথিত স্থলে সংস্কতাদি ভাষায় 
কচির সাহায্য অপেক্ষা করিতে হইবাছিল। তিনি দেপ্লেন 'রুত্বী? 
বলিলে সংশ্কত হইয়া গড়ে, আবার 'কোরে বলিলে গ্রামাত্ব হয়; 
সুতরাং রুধাতুর উত্তর ত্বা না! লিখিয়া, 'কর' এই পদের উত্তর ত প্রত্যয় 
করাই তীহার পক্ষে ঘুবিবা হইল । কিন্তু করত? নিিশ্র বীঙ্গল! 
বলিয়! কর্ণমুখ না হওয়াতে, আমর! 'করিয়া, এই পদের পক্ষপাতী 
হইয়া! পড়িলম 
ফলতঃ, এক ভাবার শব্দের উত্তর আর ভাষার অনুসারে প্রতায়াদি 
করিলে বা এক ভাষার পদের লহিত অপর ভাষার শঙ্দের সমাঁসাঁদি 


৬/ 


করিলে, কোঁন ক্রমেই কর্ণনৃখ বাযুক্কতিসিদ্ধ হয় না| বহার! বাঁজ- 
লাভাষাঁর উন্নতি করিতে ইচ্ছ,ক, এই সকল বিষয়ে তাহা দিররপতর্ক 
থাঁকা উচিত | অন্পমাত্র পরিশ্রম স্বীকার করিলেই, এ +সর্ঠুল ক্ছলে 
বিশদ্ধ ভাবে লিখিতে পারা যায়। | 

বিভক্তি ও রুদাদি স্থলে আমাদের আঁর€ সতর্ক হওয়া উচিত। 
কাঁরণবাঙ্গলাভাষায এরূপ কতকঞ্চলি পদ আছে শৃহাদিগকে আপাততঃ 
শুদ্ধ বলিয়া বোধ হয়, কিন্ত বাস্তবিক তাহার! অসাধু । বোঁধ হর,পুর্ধতন 
অজ্ঞ বিষয়ী লোকের! তাহাদিগকে এন্ধপ করিয়। গিয়।ছেন | যথা “তাহার, 
“কাহার "বহার? ইতাদি। এ স্থলে 'তার' কার “যাঁর ইতি 
শুদ্ধ নলিয়। বোধ হয়| 'তিদ' “কিম 'ঘছ। ইত্যাদি সংস্কত শব্দ হইতে 
তে" ক? যা? ইতাদি লইয়। তাঁহাদিগের উত্তর বাঙ্গল1 বিভক্তি যোগে 
এ এ পদ সম্পন্ন হইয়া থাঁকে | সুতরাং, উহ্বাদিগের মধো ভা? 
অপিদ্ধ। ফলতঃ, হু" ব্যবহার করা ব্যিয়ীদিগের একটী অভ্যাস। 
তাহারা মনে করেন। ছু যোগে কৌন কোন শব্দ শুদ্ধ হয়| বোধ 
হয়, এই নিমিন্ই বিচারাঁলয়ের লেখা পড়ায় আগি' স্থলে “আমিহ? 
ও এপুকরিণীর পার ইতাদি স্থলে 'পুঞ্করিণীর পাহাঁর' ইত্যাদি লিখিত 
হয়| এইনপ, কূদাদি স্থলে 'হুইল' 'লইল' ইতাদি ন। হইর] “টহল? 
“লৈল? বা 'নিল' ইত্াঁদি ওয়! উচিত | স্বরবর্ণ শন্দের প্রথমেই বলিতে 
পীরে, মৃধা না আন্তে বদিলে, পুর্দস্থিত বাঞ্ীন বর্ণের সহিত উহার 

হযোগ হওয়া উচিত। 

পাঠক অনায়াদেই কুনিতে পারিবেন, আমর! বিশুদ্ধ বাঙ্গলর 
অতান্ত পক্ষপাতী । কি পদ)কি গদা উভষ স্থসেই আমরা বিশদ্ব 
বাঁচ্গলার প্রিয়বাঁদী | আমর] পৃর্থ্েই কহিয়।ছি, বাঙ্গল। উত্্ষ্ট ভাবা । 
ইহা! সংস্কৃত ভাষা অশেন। অনেকাংশে হীন, কিন্তু আমরা ইহার 
পদের বিষয় যেরূপ বুণিয়াছি, তাহাতে বলিতে পারি যে. বাঙ্গলা 
পদ্য সংস্বত পদ্য অপেক্ষা অনেক অংশে নিরুষ্ট হইলেও, আর্থ 


16 


ব্াগনা ও গ্দাঁদি ব্যগ্রনাঁয় স্থলবিশেষে তাছার অপেক্ষাও উতর 
হইতেধ্র।রেণ ফলতঃ, বাঁদ্ল! ভাষার ধাতু ও নাঁড়ী সবিশেষ পরীক্ষা 
করিয়া ঈদেখিলে বোধ হয়, ইহা! কথিত বিষয়ে পৃথিবীর অনেক 
ভাঁষা তুপেক্ষা উতক্নন্ট | 

কিন্তু দুঃখের বিষয় এই, বাঁজল! ভাঁবা এরূপ উৎকুট হইলেও আণমা- 
দের পদ্ালেখকেরা ইনার প্রতি তাঁদ্‌শ আস্থা প্রদর্শন করেন না| 
তীহাঁর। অনেকেই, বোঁধ হয়, মনে করেন যে, বিশুদ্ধ বাজলায় উতক্কইট 
পদ্য রচিত হইতে পারে না| অনেকের এরূপ সংস্কবারও আছে 
যে, ক্রিয়াসঙ্কোচ+ পদসক্ষোচ ও ব্যাকরণাশ্দ্ধি না করিলে, কবিতাঁর 
মাধুরী হুইতে পারে না| কিন্ত আমর$ বিনয়পুর্ধক নিবেদন করি যে, 
তাহাদের ওরূপ সংস্কার যুক্তিসম্মত নহে। অঙ্জহী'ন ব! বিকলাঙ্গ শরীরের 
মাধুরী অনুভূত হয় না; ব্যাকরণ/শুদ্ধির নিয়ম করিলে ভাযাঁরও বন্ধন 
থাকে না। অপিকন্য' ভাষা অণ্প দিনের মধ্যেই ছুব্বোধ হইয়া পড়ে | 
সংস্ক,ত ভাঁষাঁয় ব্যাকরণাঁশুদ্ধির নিয়ম নাই এবং পাঁঠ্ক ইহাও মনে 
করিবেন ন। যে, ইংরাজী পদ্যে বাঙলার ন্যায় কথার কথায় ব্যাকরণ 
উল্লভ্বিত হইয়া! থাকে । শুনিয়াছি, মিল উনের ইপ্রাজী রচনা! অতি 
উত্কুক্ট। ফলতঃ, মিল টনাদির মত কবি বাঙ্গলায় থাকিলে; 
বাঙ্গল। পদ্যের« এরূপ অবনতি হইত ন।| আমরা ইহাও শুনি- 
রাছি যে, প্রশস্ত ইংরাজাঁ পদ গ্রন্থ দকলে অন্যার ক্রিয়া ও পদ- 
সঙ্কোচ এবং অন্যায় বাকরণাশ্দ্ধি দেশিতে পাওয়া যায় না । তাহাদের 
মধ্যে ঘে সকল গ্রন্থে এন্সপ দোষ আছে, তাহাদিগকে ইংরাঁজী 
কথকদিগের শ্বভাবমিদ্ধ বলিয়। বোপ হয় । বাভ্তবিক, কবি স্বভাবের 
অনুগামী ও ভাষা কবির নুগামিনী হওয়া উচিত। তাহা হইলেই 
আর কোঁন গোলপোঁগ দটিতে পারে না । সংম্ব,ত আলঙ্কারিকের1ও কি 
রাছ্থেন যে, বক্তা! সেরূপ ধরণের লে।ক, তাহার ভাষাও মেইরূপ হওয়। 
উচিত | আমর উপরে যাহ] বলিলাম ইহার অর্থ সেইরূপ | “এ কিরে 


|/5 


বালাই দিদি লাঁজে মরে যাই” এ স্থলে 'মরিয়া” স্থানে “মারে? বলা হই 
যাছে। লেখক সহ্শ্র সাবধান হইলেও, এ স্থলে তীহাঁর লেখনী 'মনিয 
লিথিতে চাছে না! ! আমর1 ইহাঁকেই স্বাভাবিক ক্রিয়াদোঁষ বাঁ | কিন্ত 
করিতেছে" স্থলে “করিছে" এইরূপ প্রয়োগ কখনই শ্বাভীবি ব/ হইতে 
পারে না। 
অনেকের সংস্কীর আছে, ব্যাকরণাশুদ্ধির নিয়ম ন1! থাকিলে, পদ্য লেখ! 
সহজ হয় না । বাস্তবিক, পদ্য লেখা সুজ নছে | আর নহজ হইলেই ব1 
কি? বাঙ্গাল! দেশের প্রত্যেক লোঁকেই ত ছুই এক পংক্তি পদ্য লিখিতে 
গারেন | তবে বাঙ্গাল] দেশের নাম কবিদেশ ছয় না কেন? আমাদি- 
গের সংক্কীর আছে যে, অন্যান্য দেশের ন্যায় বাঙ্গালাতেও কবি 
অপ্প হুইবাঁর কথ! কিন্তু প্রচলিত রীতির অনুসারে বাঁদ্দল। পদ্য 
বাঙ্গল। গদ্যের অপেক্ষাও সহজ রচনীয় হইয়াছে বলিয়, বাঙ্গলাঁয় 
এত পদ্যলেখক দেখা যাঁয়। 

পাঁঠিক মনে করিবেন না যে, আমাদের শক্তিশেল বিশুদ্ধ ভাষায় 
লিখিত হইয়াছে । তবে, অন্য কেছ বিশুদ্ধ ভাষায় লিখিতে এপর্যন্ত 
চেষ্ট করেন নাই, আমর] করিয়'ছি মাত্র | আমরা ক্রিয়াসঙ্কৌচাঁদি 
পরিত্যাগ করিয়াছি ও বিশুদ্ধ রীতির একান্ত অন্তুসারী হইয়াঁছি। তবে 
অক্ষমৃতা বশতই বল ন বা প্রচলিত রীতির মায়া বশতই বল নূ, "মোর? 
“সনে * প্রভৃতি ঢুইএকটা অন্যায় কথীও স্থলবিশেষে লিখিয়া ফেলিয়াছি। 
আমরা যে এই পধ্যন্ত করিয়াছি ইহাই পর্যাপ্ত । আমাদের ছাত্রের 
আবার আমাদের অপেক্ষাও ভাল করিবার চেষ্টা করিবেন । ফলতঃ, 
আমর! কবিত্বের অভিমানী নহি! ছাঁত্রদ্িগকে বিশুদ্ধ রীতিতে 
কবিত। শিখইবার নিমিত্ত আমরণ এই কাব্য রচন] করিয়াছি! 

আমরা মিত্রাক্ষরে লিখিয়াছি, সুতিরাং অমিত্রাক্ষরে যতির 
অবমানন। হুয় বলিয়া যাহাদের সংস্কার আছে, তাহাদিগকেও 
অন্ুকলিত করিয়াছি, সন্দেছ নাই ।/ তবে, কবি হওয়! অতৃষ্টের 


1%০ 


কথ | পীঠক মে বিষয়ে আমবদিগকে কোঁন গাঁলি দিলে আমরা কথাও 
কহিঘ ন!. যিনি আমাদিগের কবিতাঁর ভীষাঁদোষ দেখাইয়া, তাহ! শুদ্ধ 
করিয়! 1নবেন, আমর তীহাদিগের কথাই বিলক্ষণ ভক্তি সহকারে 
আবণ করব | 

বোধ হয়, পাঠক শুনিয়া বিরক্ত হইবেন না, লিখিবাঁর সময়ে সেই 
সেই স্থলে অপরিহাধ্য হইরাঁছিল বলিয়া সপগুম সর্গে অগভা? কতকগুলি 
ডর শব্দের প্রয়োগ করিতে হইয়াছে । বস্তুর নাঁমগ বাঁক্দল। ভাষাঁয় 
অতি অণ্প আছ্ছে। কথায় কথার সংস্কৃত অভিধানের সাহায্য লইতে 
হয় | সুতরাং, ওরূপ স্থলে আমাদিগকে অবশাই মার্জনা করিতে হইবে | 


শ্রযশোদনন্দন সরকার | 


জেংগ্রাম 
৯ ই মাঘ ১২৭৭ সাল 








প্রথম সর্গ। 


ত/জিয়া হিরণ্য-প্ুরী অরণ্যে বিহার । 
বাল্মীকিরসন1দেশে বসতি তোমার ॥ 
অর্থের অর্খিনী নও অধনকিস্করী । 

কে জানে তোমার মায়! সারদ] স্বন্দরি ॥ 
বসন ভুঁষণ নাই বাল্মীকির ঘরে । 

আপনা আপনি আলো ভুষণে কি করে ॥ 
বরদে তোমার বরে সকলি হুইল ? 

বনের বানরে সেই সিন্ধু বান্ধীইল ॥ 
নিমেষে নুতন সৃষ্টি যদি মনে কর। 
কস্পনারূপিণী তুমি কত মায় ধর ॥ 


এথম সগগ | 


পতি বিনা কমলিনী ডুবিবাঁরে চায় । 
ক্পনে তোঁমার মায়া উপজিল তায় ॥ 
অনেক দিনের পথ অকণের ঘর । 
ঘটাঁইলে ভাল তুমি রাঙ্গী বটে বর ॥ 
বিবাহ হুইল বটে ভাবে কমলিনী । 
চাহিয়? পথের পীনে চির-বিরহ্ছিণী ॥ 
দেখিয়া সখীর শোক ভ্রমরী গুমরে। 
শৌকে কাঁদে তীর-তক পত্রধারা! ঝরে ॥ 
মজিল কুলের বালা তোমারি ঘটনে । 
তাই কি সতত সতী ভাব মনে মনে ॥ 
কি আর কণ্পনা দেবি ভাবিয়া অসুখ । 
তুমি কি করিবে যার বিধ'তা বিমুখ | 
মনে কি পড়ে না! দেবি সেদিন তোমার । 
যে দিন পড়িল] রণে রাবণকুমার ॥ 
আপনি করিলে গীন বাল্ীকির বনে 1 
যে রূপে সোণার লঙ্কা পুরিল ক্রন্দনে ॥ 
বিধির বিপাক এই ভাবিলে কি হয়। 
ইক্দ্রজিৎ পড়ে রণে বানরের জয় ॥ 
অমরে জিনিয়। পতি আপনি মরিল। 
লঙ্কার প্রমীলা কত কান্দিতে লাগিল ॥ 
বাজিল বিজয়ভঙ্কা গর্জিল বানর । 
সুরাঁসুর যক্ষ রক্ষ কাঁপিল কিন্তুর 
গড্জিয়া অঙ্গদ বীর সিংহুনাদ দিল | 
বারদর্পে মহীলক্ষে লঙ্কী চমকিল ॥ 


শক্তিশেল | 


চলিল। লক্ষণ বীর করে করবাল। 

যে করে খণ্ডিত আজি লঙ্কার কপাল । 
যে করে খণ্ডিত আজি লঙ্কা চুড়ামণি। 
লঙ্কেশিতনয় সেই লঙ্কা'র তরণি ॥ 
হুঙ্কার ছাড়িয়! বীর পবননন্দন 

পশ্চিমে সাঁগরকুলে দিলা সন্দর্শন ॥ 
নয়নে রক্তের ধারা নিশ্বাস গভীর 1 
চকিয়া চকিয়া চক্ষে চাঁছে মহাবীর ॥ 
ৰকধিরে বসন রাঙ্গা রক্ত কলেবরে। 
কুঙ্কুম খেলিলা যেন লঙ্কীর সমরে ॥ 

না মরে ব্রহ্মার বরে অগ্জনাতনয় | 
নতুবা সংগ্রামে আজি হইত মংশর ॥ 
যার শরে গজরাঁজ এররাবত বীর | 
বদন ব্যাদিয়। ভয়ে কুঞ্চিল শরীর | 
শৃওড গুটাইল ঘটে উদরে লাস্কুল। 
পৃষ্ঠোপরি বজ্পাঁণি ভাঁবিরা আকুল । 
ভরতলে পড়িল মালা দিব্য পারিজাত। 
খসিল হাতের বজ্ঞ শিরে বজাঁঘাত ॥ 
সংগ্রামে শুনিয়। যার বিজয়-টক্কাঁর | 
সে দিন বানর-সৈন্যে গেল হাহাকার ॥ 
থখকুক অন্যের কথ1 রাম বন্দী রণে। 
ভাঁগ্যে ছিল বৈনতেয় বাচিলা জীবনে ॥ 
হার রে বিজয়-লক্ষনী চির কাল নর । 
সময় কুটিল অতি কখন কি হয় ॥ 


প্রথম সর্গ। 


বনচারী বনবাঁসী বনের বানর । 
অনায়াসে দেখ আজি লজ্িল সাগর ॥ 
আজি সে দেবেক্দ্র-বৈরী পড়িলা সমরে। 
কিরীট কাড়িয়া কপি বারদর্প করে ॥ 
জিনিয়া লক্ষ্মণ বার দুঙ্জয় সমর | 
ধীরে ধীরে দেখ] দিলা রামের গোঁচর ॥ 
করে করবাল বীর রক্ত-কলেবর | 
রৌদ্ররস চলে যেন শাস্তির গোঁচর ॥ 
হাসিল সকল সৈন্য মহীকুতৃহুলা | 
জয়শীলে বন্ধুবর্ পরার কোলাহলা ॥ 
অথবা সতত যর রছে পরাজর | 
হুউক পরম বন্ধু তাঁহে ভক্তি নর ॥ 
হাসিল সুংগ্রাব বার গ্স্তীর বদনে | 
বদনে বিকার কিন্তু নির্বিকীর মনে ॥ 
হউক পরম জর হউক উদর । 
সসার হৃদয়ে সদা শাস্তির বিজয় ॥ 
জর রাম বলির! উঠিয়া নল বার | 
আদরে ঘুচিয়া দিল বর্ষিত শরার । 
সংবরিতে নারে নাল আনন্দ অপার । 
প্রণয়ার চপলত সুখের বিকার ॥ 
হাসিয়া লক্ষমণ বার নমিলা বদন । 
জরীার বিনীত হাস সুখের দর্শন ॥ 
খলিল বিজয়-বশ্ব ঝঙ্কার করিয়। | 
আনন্দ ঘোবিল যেন লঙ্কারে চখিযা ॥ 


*ক্িশেল | 


বাজিল রে শঙ্ ঘণ্টা ভেরা তুরা নাদ। 
রাবণ রাজার আজি বিষম প্রমাদ ॥ 
এ দ্দিকে বিজয় দস্ত ও দিকে উল্লাস । 
রাঁমের বদনে শুধু ছুঃখের বিলাস ॥ 
বরঞ্চ দেহের কালী সময়ে না রর । 
হৃদয়ে পভিলে কালী উঠিবার নয় ॥ 
পড়িল ছুজ্জয় বৈরী বিবম সমরে । 
আনন্দ কাঁছার আজি অভ্তরে না ধরে ॥ 
ভুলিলা বাশের ব্যথা লক্ষ্মণ সুথীর | 
প্রক্ল্প নয়নবিশ্ব প্রফুল শরীর ॥ 
অলক্ষ্য সে সব সুখ মারার নরনে । 
কাতির হইল রীম হেরিরা ল্মমণে ॥ 
কথায় কথার যার আত্মবিস্মরণ | 
ধ্যানমগ্ন-সমভাব বাহার নরন । 
অবশ্য যাহাঁর মনে চিন্তার বিজয় । 
সদ্যোজাত স্ুখ ছুঃখ তাঁর লক্ষ্য নয় ॥ 
ধীরে ধীরে প্রণাম করিল সন্মান । 
ঈবৎ হাঁসিয়। রাম নয়ন ফিরান ॥ 
কিঙ্করগোৌচর এই অনন্যগোচর | 
প্রভৃর মধুর হাস সুখের আদর ॥ 
প্রকাণ্ড মুকুট করে করে ঝলমল । 
বিছ্যুৎ সমান প্রভা মহামহোৌজ্ভ্বল । 
হীরকে নির্বিত মধ্য মহাদাণ্ডিমান্‌ । 
পদ্ারাগ মণি মুখে ভাঙ্ষর সমান । 


প্রথম সর্গথ | 


অপুর্ব ব্রন্মীর মুর্তি পশ্চিম বিভাগে! 
পশ্গাতে পূর্ণিমধচন্দ্র জ্বলে মহারাঁগে | 
পূর্বদিকে মহাশ্‌্ক্গ সমেক অচল । 
বিরচিল! বিশ্বকর্মা! মহাকুতৃহুল | 
বৈছুধ্য মণির হারে কাঞ্চনের ছটা । 
নৈখতে জলদজালে বিদ্যুতের ঘটা । 
অপ্ুর্ব্ব অশ্মির কোণে উল্কার পতন | 
বঞ্রু বেগে ধুমকেতু করে পলায়ন । 
ঈশানে অলস অঙ্গে সহ প্রেত দলে । 
ঈম্শান বিলাসী সুখে মন্দীকিনী-জলে । 
বাঁকণে সন্ধ্যার তাঁরা হাসে খল খল ॥ 
উপরি বৈকৃণঠপুরী এ্রুব স্ুবিমল । 
দক্ষিণ সাগর নীল ভাম্করের তলে । 
কাছে বসি শুক্রা্গার্য্য ছেরে কুতহছলে ॥ 
অপূর্ব মুকুট খাঁন অপুর্ব গঠন । 
রামের চরণে বার করিল অর্পণ ॥ 
ধূমকেতু গ্রহ তাঁরা প্রতিমার জ্বলে । 
ভুবন খসিয়া ফেন পড়িল ভূতলে ॥ 
চাহিরা সুকুট বিশ্বে দেখিতে না পার । 
নরন চাপিরা কুরে বানর পলার ॥ 
নির্্ল মুকুট তলে ফলিল বদন ! 
নান! দিকে নানা কথা কহে নানা জন ॥ 
পন্য বীর ইক্দ্রজিহৎ ধন্য মার! জানে । 
নরন করিল কাণা গুকুটের বাণে ॥ 


শক্ভিশেল | 


সে দিন ভল্মখক্ষ এক আলির! সমরে ॥ 
কটাঁক্ষে দছিয়! গেল সহজ্র বানরে ॥ 
ইর্সিতে অঙ্গদ বীর বুঝিয়া সময় । 
দেখিয়া কপির ভ্রান্তি নানা কথা কয় ॥ 
কে জানে কেমন ভাই রাক্ষসের মারা 
মুকুট ভিতরে যেন স্মুগ্রীবের ছাঁয়] ॥ 
হ্যা দেখ সুবল কাঁক। এ কি অলক্ষণ ॥ 
সুকুট ভিতরে যেন ঠাকুর লব্দমণ ॥ 
ন] জনি গবাক্ষ বুড়া কেমনে চুকিল । 
কেমনে হইবে বারি কিছু না ভাবিল ॥ 
দর্পণে ফলিল যদি নিজের বদন | 
অজ্ঞনি ভাবিয়। কপি শুনিয়া বচন । 
উরঃ কীপে ছুক ছুক নিশ্বাস সঘন । 
লাম্্ল পড়িল ভূমে বিহ্বল নয়ন । 
আস্তে আস্তে কাছে যায় নিমেষ না নড়ে । 
চরণে করিয়! স্পর্শ চীৎকরিয়া পড়ে ॥ 
কহিতে লাশিল কপি স্থলিত বচন । 
রাক্ষস বাঁনরী ইছে আছে অগণন ॥ 
দেখিয়! কপির ভ্রান্তি হাসে রযুবীর। 
হাঁনিয় শিবিরে গেল অঙ্গদ সুধীর ॥ 
একে একে প্রণাময়! উঠিল সকালে । 
চলিল বাঁনরসৈন্য মহা কোলাহলে ॥ 
হউক পাষাণ তবু আত্মীয়ের মন। 
চাছিয়! মুকুট পানে কান্দে বিভীবণ ॥ 


প্রথম সর্প | 


হাহ] পু ইক্দ্রজিৎ গুণের নিধাঁন। 
কি আর কান্দি বা আমি মায়াবী পাষাণ ॥ 
গঠিল আমীরে বিধি আত্মনাশকারী । 
সন্তানঘাতক আমি হইয়] সংসারী ॥ 
হিত বাক্যে বিপরীত না হয় মনন ! 
চরণ হাঁনিল! তাই ভাই দশীনন ॥ 
অদেোষে আমারে বিধি করিল ভিখারী । 
জীবন-যাঁপক আমি রঘুদেব-দ্বারী ॥ 
রাজনীতি কাঁলকুট বুঝিতে না পারি । 
আপন কল্যাণে আমি তনয়ে সহঙস্থারি ॥ 
অভাঁগিনী সরমংর অঞ্চলের ধন ॥ 
আমারি মন্ত্রণা পীঁশে সীধিল জীবন ॥ 
কার তারে প্রজীহীন রাঁজত্ব লইরা ॥ 

২সাঁরী হইব আমি তনয়ে বধিয়া ॥ 
রাখিব দাঁকণ কথা জলধির কুলে । 
আপনি দংশিয়া কোপে আপন অঙ্গলে ॥ 
আদরে হদয়ে কত পালিয়। তোমায় । 
'অনায়সে বলি শেবে যৃত্যুর উপায় ॥ 
খডাঁনছি আঁমি রে মায়াবী বিভীষণ ? 
আমার সন্ধানে এই তোমার মরণ ॥ 

এই রূপে বিভীষণ করিলা রোদন । 

স্বগীব সদয়ে দিলা এবোধ বচন ॥ 
মননে সরল ভাব কর হীন নয় । 
এ দিকে পরম বেরা ও দিকে সদর ॥ 


শক্তিশেল | 


ঠী 


সহজে দয়ালু রাঁম দেখিয়। অধীর । 
বিভীষণ সংবরিল! নয়নের নীর ॥ 

কাহার আনন্দ-দিন কাহার সংস্থার । 
রাক্ষস সেনার আজি মহা হাহাকার ॥ 


কি রূপে সংবাদ দিবে লঙ্কার ভিসরে। 
মিলিয়া সকল সৈন্য যুক্তি চিন্তা করে ॥ 


ভগ্মদ্ত বলে হার লঙ্কাপুরী দেখা ধার 
কেমনে প্রবেশ আজি করিব উহ্হায় । 

কেমনে প্রভুর বাস প্রভুনিন্দ বছে দাস 
প্রভুর মুখের হানি কেমনে ল,কায় |! 


ইতি ইক্দ্রজিন্মুকুটবর্ণনা নাঁম 
প্রথম সঙ ॥ 


দ্বিতীয় সর্গ ৷ 


জ্মেক গিরির শঙ্গে লঙ্কার নির্মাণ 
লঙ্কার পরিখা শোঁভে আপান সাগর 
অমুল্য মাণিক মুক্তা লঙ্কীর সাগরে 
দেবের ছুল্ল'ভ পুরী লঙ্কার নগর ॥ 


মন্দারঁকনী-নদী-তীরে দেবের নিলয় 
ভোগবতী-নদী-পাঁরে পাতাল নগর । 
কিন্নরনগরে বহে গঙ্গী আর নদী 
লঙ্কার চরণে বান্ধা আপনি সাঁগর ॥ 


জানি অহে ভাগীরথি মহিমা তোমার 
যে জন্য সাগর সহ সঙ্গম খেলাও । 
লঙ্ক(র নুতন নিত্য হরির সন্দেশ 
লঙ্কার সুখের সখা শঙ্করে ভুলাও ॥ 


না জানি কখন্‌ কোথা লঙ্কাঁর রাবণ 

থর থর কাঁপে ভয়ে সুর-পারিজাতি। 
আপনি বাঁসর-মশি জানিতে সংবাদ 
লহ্গার সাগর দিয়া করে যাতায়াত ॥ 


ছিতীয় সর্গ | 


সাগর শয়ন-সুখী উঠিতে না পারে 
কে দেয় জলের ছটণ লঙ্কীর বাস্ছিরে । 
ভয়ে ভীত নিশানাথ ভাবিয়? উপায় 
ধরিয়া আপন করে ভুলে জলখিরে ॥ 


অমরা-পুরীর পতি যে প্লুরীর দ্বারে 
অফ্টাদশ পুরী এই সেই লঙ্কাপুরী | 
মরদাঁনবের সঙ্গে মিলিয়া জুবীর 
বিশ্বকর্মা বিরচিল' বিশ্বের চণভুরী ॥ 


ভাঙ্গিব ৰলিয়া বলী বজ্পাণি যাঁর 

হুঙ্কার করিয়খ বজ্‌ হাঁনিল সে দিন। 
ফিরিল নিজের বজ্‌ নিজের মাথায় 
কাল-দণ্ড পলাইল ভাবিয়া মলিন ॥ 


কপালে মাঁণিক জ্বলে অতি অপরূপ 
চারি দিকে চারি চাক লঙ্কাার তোরণ । 
দিবস নিশীথে যেন নয়ন চাহিয়? 
সমুদ্র-লহরী প্ুরী,করে ৰিলোকন ॥ 


দিক-পাঁল দীনব দেবের ভয়ঙ্কর 
দ্বারবান্‌ দীণ্ডাইয়া দও্ বাঁম করে । 
দক্ষিণে প্রকাণ্ড জাঠা প্রচ্ড-গঠন 
বিছ্যুৎ সমান জ্বলে ভাস্করের করে ॥ 


প্রাচীর হইয়] পার পুরীর ভিতরে 
প্রবেশ করিল দত স্তম্তিত-চরণ 


১৭ 


শাক্তিশৈেল । 


সমুদ্র লহ্রী-লীলা খেলে যেই খানে 
পাতাল-স্ুরঙ্গ দিয়া করিয়] গমন ॥ 


বিনা দৌষে রয়ুনাথ করিলা বন্ধন 
লঙ্িলা বানর-সৈন্যে জীবনে কি সর । 
তাই বা শৌকের ভরে উক্ছ'সে জলি 
ছুবেল! রাজার বাচী উপনীত হয় ॥ 


প্রবল বৈরীর করে অবশ্য বিজয় 

কি আর করিবে সিন্ধু কে বা রক্ষা করে । 
তরু কি মনের ক্ষোভ সহজে পলা 
গজ্জন বিতরে কণী বিশিয়া বিবরে ॥ 


কি আর প্রবাল মুক্তা মাণিক ভূষণে 
অমুলা মাণিক সেই ম্বাধীনতা-ধন | 
তাই বা মনের শোকে রাঁকণ-ভবনে 
প্রস্তর-পুলিনে সিন্ধু করে সম্পতন ॥ 


প্রবিশিল ভগ্ম-দূত পরিখার পারে 
অপুর্ব্ব পৃতনা-পুরী মহাভয়ঙ্কর । 
জর-মদে পুরা-চুড়া লজ্ঘিল গগন 
দেখিয়া দেবের পুরা কম্প-কলেবর ॥ 
পাষাঁণে রচিত দেহ কে জনে রচিল্‌ 
পাষাণ স্ফ.টিয় যায় দেছের স্ফোটনে ॥ 
একে ত সৈনিক জাতি তাহাতে রাক্ষস 
পাঁষুণ বিদরে দরে চাহিলে নয়নে ॥ 


দ্বিতীয় সর্শ। ১৩ 


নয়ন কুচীরে মগ্ন দর্শন কুটিল 
কপাল পরম উচ্চ নিশ্বাস গভীর । 
লম্ষিত বিপুল ওষ্ঠ সুদীর্ঘ চিবুক 
বন্ধুর কপোল-দেশ বিশাল শরীর ॥ 


হাহা হিহ্ী কোলাহল আমোদে মাতিয়া 
স্থখের বাকণী-সখী অঙ্গ আবেশিল । 
পাঁচীরে ঝনিল মাথা চরণে ঢলিয়! 
পর্বত-শ্িখরে যেন বজ্তু টঙ্করিল ॥ 


লম্ফ দিয়া কুতুহছলে বদন ব্যাদিয়। 
চুম্বন করিল কেহ ঘোটকীর গলে । 
পলার অস্থির ঘোটা দশন-জ্বালায় 
গঁরিল সকল সৈন্য হাস্য কোলাহলে ॥ 


নয়নে সুরিয় চায় আদরে ঢলিয়া 
তজ্জিয়। করিনী-শ্িরে করে মুষ্ট্যাঘাত ॥ 
আপনি আপন মদে আপনা বিস্ম,ত 
শৃওীঘাঁতে হত গণ্ড না করে দৃক্পাত ॥ 


হৃদয়ে কধির ঝরে দস্তের ছেদনে 
মধু-মদে মত্ত মল্প করে নিরীক্ষণ । 
উঠিল সহুদা মনে অশ্মির সংশয় 
চী২কার করিয় বেগে করে চংক্রেমণ ॥ 


শুনিয়া সৈনিক দলে মহ্ধাকৌলাহুল 
চাহিয়া সেনার পতি আরক্ত নয়নে । 


১৪ 


শৃক্ভিশেল 1. 


প্রহারে দুর্জয় গদা পৃষ্টের উপরি 
চীৎকার করিয়া যল্প লুকায় ভবনে ॥ 


অছরে আমুধ-পুরী অপুর্র্ব রচনা 
সদাই আলোঁক-ময়া অস্ত্রের কিরণে । 
গর্ভিণীর গর্ভভার ঘাতকের পাঁপ 
অন্তরের তেজন্যিতা না রয় গোপনে ॥ 


সুরপুরী হত-শোভা যাহার শিখায় 
এই সেই নন্দন-বনের দাবানল । 
এই সে আয়ুধ-পুরী রাঁবণের পুরে 
সপ্ত্ধ্য সম তেজে দহে তৃমণ্ডল ॥ 


দক্ষিণ পৃতনা-পুরে বন্দীর ভবন 
নীরব হইয়া! ৰহে আপনি পবন । 
পলায় সুর্যের বেটা রাক্ষসের ভয়ে 
আপনি সমরে বন্দী সহআ-লোচন | 


স্মরিয়া বাঁণের ব্যথা দেবের সমরে 
দান্তে দন্ত নিপীড়িয়? চাহে নিশাচর । 
গবাক্ষ-বিবরে চাহে জ্বলন্ত নয়নে 
দেখিয়া দেবতা-বন্দী কাঁপে থর থর | 


বসন তিতিয়1! যায় নয়নের জলে 
হাঁহাঁকারে মহাঁকারা প্রতিনাদ করে । 
বাঁতুল হইয়া বন্দী শেশকের জ্বালায় 
মনের বেদন1 গার প্রহরী গোচরে ॥ 


দ্বিতীয় সর্গ | ১৫ 


স্বর্গের দেবতা আমি সুখী চির দিন 
পারিজা'ত তুলি আমি নন্দনের বনে । 
অপ্সরা-রূপসী মোরে সদা হাসি হাসি 
কি স্গথে রহিব আমি রাঁবণ-ভবনে ॥ 


আর না যাইব আমি পারিজত-বনে 
আর না ঢুকিব কতু ইন্দ্রের ভবনে । 
শ্শচীর ভবনে আঁর বহিব না কুল 
সন্ন্যাসী হইব আমি স্বর্গের কাননে ॥ 


প্রীণের প্রেয়সী মোর কান্দিতে লাশিল 
কান্দিল। জননী কত পথে দাগ্ডাইয়া । 
রাত! রাক্ষস তবু মারা না বুল 
বসন বান্ধষিয়। গলে আনিল ধরির] ॥ 


অসংখ্য বানর বন্দী প্রর্বব চমু-প্গুরে 
বদন ফিরিরণ রছে গবাক্ষের দ্বারে । 
কত দিনে উদ্ধীরিবে ঠাকুর লক্ষণ 
কত দিনে লক্ষে ঝম্পে দহিবে লঙ্কারে ॥ 


মনে কি পড়ে না সেই চচত্রকুট-বন 
পাথরে শয়ন আর ঝরণার জল । 

কি শোকে অস্গুখী তবে লঙ্কার কারায় 
কি দোষে সৌনার শয্যা শয়ন গরল ॥ 


এতই কি গিরি-গুহা শরনের আুখ 
তৰ-শাখা এতই কি স্থুখের আসন ! 


শক্কিশেল । 


এতই কি সুমধুর কাননের ফল 
মৃুগসখ।? এতই কি মনের মনন ॥ 


আহা! কি সুখের ভ্রম স্বধীনত নাম 
হার কি সুখের সেই স্বাধীন ভ্রমণ । 
বরঞ্ সিন্ধ,র তীরে সমরে মরণ 
নপুনও লঙ্কার গ্রহে কাঞ্চনে শয়ন ॥ 


পশ্চিম পৃতনা-পুরে পুর-শৌভাকর 
রাজ-সভা পুর শৌভে মহামনোহর । 
স্বর্গমর্ত-পাতীল-বিজয়ী কচিমাঁন_ 
আপনি রাবণ রাজ যাহার ঈশ্বর ॥ 


রণ-বন্দা কুবের বৰুণ পুরন্দর 

প্রবেশ করিল যবে লঙ্কার সভায় ॥ 
দেখিয়! পুরার শোভা ভাঁবিতে লাগিলা। 
প্রলোকে বিধি বুঝি দিলা দেবতায় ॥ 


কি বা শোৌভে দেবসভা মন্দাকিনী-কুলে 
কেন আকিঞ্চন তায় লভিবার তরে ॥ 
ভবনদা ধৈতরণাঁ কেন হয় পার 

বৈকু%, রহিলা যদি লঙ্কার সাগরে ॥ 


রথয় নাগের পতি মণিরত্ব তরে 
গুৰকভরা বস্ুুক্ধরা ধরিলা মাথার । 
দেখুক কেমন শোভা লঙ্কাঁর সভায় 
মাণিক সোপানে কত গড়াগড়ি বার ॥ 


দ্বিতীক্ সর্ণ | ১৭ 


রাবণ পরমধৈরী লঙ্কাঁয় কে যায় 

কে বা আর রাজনীতি শিখায় তনয়ে । 
রাজ-ছুত নহে হিংস্য ভাঁবিয়া দেবেশ 
জয়ন্তে রাখিল! ছুত লঙ্কার আলয়ে ॥ 


চন্দ্রহুর্ম্য-লীলাখেলা সাগরের জলে 
চারি দিকে লঙ্কা-পুরী সাঁগরে মণ্তিত। 
সাগরে উদ্দিত অস্ত গ্রহ তারাপতি 
জ্যৌতিষে লঙ্কার সভা সহজে পণ্ডিত ॥ 


পৃতনা-পুরীর পাঁরে বহে তরঙ্গিণী 
বিচিত্র রমণী-পুরী তরকঙ্গিণী পীরে । 
রথা শোভে সুরপুরে সুর-তরক্িণী 
স্থরত-রঙ্গিণী শোভে মিছা চক্দ্রহারে ॥ 


এ বুঝি দেখা যায় অশোকের পুরী 
অশোকের পুরী কিন্তু শোকের ভবন । 
বয়োদোষে বিশ্বকর্্মী সকলি ভুলিল। 
কি নীম গঠিতে শিয়া কি নাম গঠন ॥ 


সোনার প্রাচীর এ চাঁরি পার্্ময় 
যেমন আকার নয় তেমন প্রকার । 
থাকুক ফণায় মণি থাকিলে কি হুয় 
উদয়ে অনাথ] কেন্ছ করে হাহাকার ॥ 


হউক শোকের বন পঞ্চবটী বন 


বিজনে প্রণয়ি-সঙ্গ শোকের ত নয় ! 
৮৬, 


১৮৮ 


শক্তিশেল | 


হউক অশোৌক-বন চাঁক উপৰন 
বিফল হইলে আর সুখের কি হয় ॥ 


কে তুমি কনক-লতা! অশোকের তলে 
কর-ভরে অলসিয়া অশোৌক-শীখায় ৷ 
বাম পদে দিয়। ভর দক্ষিণ চরণে 
অধোমুখী কি ভাবিয়া কি লিখ ধরায় ॥ 


একে ত তরল ভাঙে সহজে কাতর 
কপৌোোল আপন ভার সহিতে না পীরে । 
হেরিয় দক্ষিণ ভুজ দিল উপাঁধান 
ঢলিয়। পড়িল বেণী নিতশ্বের পারে ॥ 


খন্িল ধরণী-তলে হৃদয়-বসন 
ভানসিল কমলকলি কাস্তি-সরোবরে ॥ 
থারে বহে শূন্য ভরে নয়নের জল 
পলায় চেভনা-দখী শ্বসিরা কাতরে 


অদূরে সরমা-পুুরে সরমা সুন্দরী 
পতি-বিরহিণী সতী পুত্রবিয়োশিনী | 
কুউক রাক্ষস-যোনি যোশিনীর ভাব 
কৌমুদী রবির সুতা নহে সন্তাপিনী ॥ 


কণ্টকী-লতায় ফুল অভাব ত নয় 
প্রস্তরে মাণিক-লাভ নহ্হে অসম্ভব | 
ছুশ্মতি-রাবণ-গুহে সরমা-সঙ্ষতি 

নহে অপরূপ কিংবা নহে অভিনব ॥ 


ছিতীয় সর্শ | ১ 


শন্য ভাব সরমণর তরণীর শোকে 

বৃখায় সংসার আর মিছা আ'র বাদী । 
অঙ্গনে সোনার থালা গড়াগক্তি যায় 
পড়িয়া ধাসের বনে মুক্তা পরিপাঁগি ॥ 


মরদানবের পুরী অপুর্ব-নির্মীণ 
ময়দখনবের কন্যা আপনি বথায় । 
আপনি সন্দেশ-বাহী মলয় পবন 
আপনি রাবণ রাজা নিত্য আসে যায় ॥ 


চক্দ্রকাস্ত-মশিময় অঙ্গন-বিভাগ 

তরঙ্গ খেলায় যেন তমৌহর-করে । 
গ্রহের বিতানে শোঁভে পঘ্মরাগ-মণি 
কহলার সমীন তার পতিবিশ্ব ধরে ॥ 


স্করটিকে রচিত ভিত্তি অর্ছে বা কি নাই 
কে জাঁনে কিসের দ্বার দেখিতে না পাঁয়। 
আপনি রাবণ রাজা কত শত বার 

বেশ করিতে শিয়া ঠেকিল। মাথায় ॥ 


অপুর্ধ গৃহের মাঝে দর্পণ-রচনা 

একা মন্দেঃদরী শৌভে শত মন্দেখদরী । 
স্বেরিয়। বিংশতি-বাহু ভাবিয়া আকুল 
একেরে ধরিতে শিয়া আরে পাছে ধরি ॥ 


বিবিধ কুস্ুম-লতা অঙ্গনের পারে 
ঢলির়। কুস্ুম-রসে জমর খেলায় । 


হক 


শক্তিশেল | 


এ কি আর অপরূপ শরন-মন্দিরে 
ভ্রমর খেলায় কত কুতস্মম-লতায় ॥ 


অদুরে পরম শোভে কেলি-সরোবর 
কলহংস করে কেলি কেলি-সরোবরে । 
শিহুরে কামিনী-কুল কলহৎস-কলে 
কণতর কামীর কুল কামিনীর তরে ॥ 


কেলি-কদশ্বক-কুলে ভাবিয়া! ভাবিয়া 
আদরে বকুল-মূলে রাখিয়! বসন । 
ঝীপিয়। কামিনী কেছ সরসীর জলে 
চাছির। বকুল-তলে কছে বিবরণ ॥ 


এ কি রে বালাই দিদি লাজে মরে বাই 
কে ধরিবে তাঁয় হায় কহি বা কাঁহায় । 
আকুল ভাবিয়া সই অকুল পাঁথার 
দুকুল হুরিল চোরে বকুল-তলায় ॥ 


কেলি-সরোবর-পুরী-প্রীচীরের পারে 
অদূরে প্রমীলা-পুরী এ দেখা যার ॥ 
বারণ করিলা তবু না শুনিলা নাথ 

না জানি বিধাতা বুঝি ঘটায় কি দায় ॥ 


আর কি ফিরিবে সেই জিনিরা সমরে 
লঙ্কার সমর আজি মহ্থাভয়হর । 
কুপিয়ধছে নাগ-পাশ-জ্লায় জুলিয়। 
সন্গ্যাসী সীভার পতি মহ্ধথনুর্ধর ॥ 


দ্বিতীয় সর্গ | ২১ 


দর্পণ ধরিয়! দেবী কুম্তল সাজায় 
আদরে হৃদয়-দেশে ঈষৎ চাহিয়1 | 
বাঁকিয়া দক্ষিণে বামে হেরিয়া বদন 
আপনি দর্পণে চাহে অ+পনি হাসির ॥ 


প্রমীলা-পুরীর পীরে রত্তের ভবনে 
নিকষ নিকধা-পুরে করে হাহাকার । 
কন্দল করয়ে বুড়ী স্ুুর্পনখা সনে 
সর্মনশী মজাইল সকল সংসার ॥ 


রাজীর মহ্বী তুই গ্রহথস্থের বেচী 
পঞ্চবটী বনে কি না গেলি তাড়াতাড়ি । 
আমার বেটার দ্বারী দেব পুরন্দর 
তুই কি না গেলি এক সন্যাঁসীর বাড়ী ॥ 


কোথা গেলি কুস্তকর্ণ বাপ রে আমাঁর 
তোমা বিনে শুন্য পুরী দেখা দাও বাঁপ। 
কোথা অরে বাপধন অক্ষর-কুষার 

কে মোর বাছারে দিল মরণের শাপ ॥ 


সীতা যে মানুষ নয় জমি কি জানি না 
আচম্বিতে জন্মিল মেদিনী ফুটিয়! । 
কান্দিলে মুক্তা ঝরে এ কি অলক্ষণ 
সে কি না লঙ্কীর মীঝে বসিল জুড়িয়] ॥ 


প্রাণ বিনা দেহ যেন গন্ধ বিনা ফুল 
বন্ধৃতা প্রয়ান বিনা দত্ত বিন! শূর। 


চে 


শক্তিশেল | 


যুক্তি বিনা তর্কবাদ জ্ঞান বিনা মন 
কুস্তকর্ণ বিনা শোভে কুস্তকর্ণ-পুর ॥ 
তুঙ্গ পুরী শত-দবার মহা-পরিসর 
চুর্ণ-হীন গৃহ-ভিত্তি নির্বীসের ভরে 1 
বিশ্শাল সুবর্ণ-ঘউ মদিরা-কলস 
কুস্তকর্ণ-গরিমার পরিচর করে ॥ 


অদরে সুচাঁক লীলা-চতুরঙ্গ-পুর 
এ আর স্বরূপ খেলা চতুরঙ্গ খলয়ে ! 
বা অর্শ রথ গজ রথা মন্ত্রিবল 
মহারাজ শশব্যস্ড' পদাতির ভয়ে ॥ 


পাখী গায় কল রবে পশু করে নদ 
এ সে রাজীর বাঁড়ী মন্দ্রা-ভবন । 
শিখি-শ্শিখ! করি-কর সকলে আহত 
সে দিন দহছিল সবে পবন-নন্দন ॥ 


দহিয়া হৃদয়-তাঁপে পুরীর পবন 
বন্দিনা বন্দিনী-পুরে করে স্বাহাকার । 
হেরিয়া বিজয়-লক্ষী হাসিয়া আকুল 
দয়ণ-দেবী পলাইলা সাগরের পার ॥ 


অবমান ভয় নাঁই মদনের মনে 
অভিতাপ অভিশখপ ন1! মানে বারণ । 
ভাল বীর জর-লম্ষমী তোমার সন্তান 
আনন্দে পীড়ন করে বন্দিনী-ভবন ॥ 


দ্বিতীয় সর্গ | ২৩ 


সাগরে গ্রশীস্ত ভাব নহে অপরূপ 
হরিণ বসতি করে শীর্দ,ল-কাননে । 
মুনির অভাব নাই দস্যময় দেশে 
চিন্তা-পুর শৌভে এ রাবণ-ভবনে 4 


সুচীক কুজুম-শৌভা কানন-বাঁসিনী 
বন্ছ দুরে চন্দ্র-পুরে কৌমুদীর ধাম । 
পাতল-বাসুকিপুরে মণির নিলয় 

কে জানে কাহার ঘরে চিন্তার. বিরাম ॥ 


পরনারী-পরায়ণ পরম পিশাচ 

মদন বিজয়ী যার সে জয়ী কি জয়ী ! 
তাই বা জানকী-চোৌরে কহিতে সন্দেশ 
জয়ি-পুরে বাস করে পুরী চিন্তাময়ী ॥ 


চারি দিকে তৰ-লতা শৃন্যময় ভব 
রীবণের চিন্তা-পুরে পবন না সরে । 
ধীরে ধীরে দেখা দেয় রবির আলোক 
গাভীর গহনে যেন যাতায়'ত করে ॥ 


গৃহের উপরি দিয়া রাক্ষসের ভয়ে 
আকাশ-বিহ্বারী কেহ উড়িয়া ন1 যায় ॥ 
না ঝরে ঝঙ্কার দিয় গাছের পল্লব 

কি জানি রাজার পাছে ধ্যান ভঙ্গ পায় ॥ 


অদুরে শিবের পুর চিন্তা-পুর-পারে 
কে আর করিবে আজি শিব সন্দর্শন। 


২৪ শক্ভিশেল | 


শুনিয়া লঙ্কার দ্বারে মহা! কোলাহল 
ধীরে ধীরে চিস্তা-পুরে বিশিলা রাবণ । 
নাজানি কিসের ভঙ্কা কাপিল সকল লঙ্কা 
কপিকুলে না জানি কিসের কোলাহল । 
প্রাণ যে কেমন করে কে জীন কিসের তরে 
আমার এ দেহ মন হুইল বিকল ॥ 


প্রীণের ভরপা সেই শিয়ীছে সমরে | 
কেন আজি রণ-বার্তী ন। এল অত্বারে ॥ 
ভাবিয়া কপোল-তলে কর বিন্যাসিয়া । 
বনিল লঙ্কীর পতি উষ্ঙ নিশ্বসিয়। ॥ 


ইতি লক্কাপুরবণনা নাঁম 
দ্বিতীয় সর্গ। 


তৃতীয় সর্গ॥ 


৮0৩0০ 


এ সে পৃতনা-পুরী এ বাঁজে ভেরী তুরী 
আকুল রাজার দূত ভাবির1-ভাবিয়1 | 
সৈনিকের কল কল অন্ত্যভুমি-কোলাহুল 
স্মরণে সহসা যেন দিল উপজিয়1 ॥ 
সেই সেনা সেই পুরী নেই ত বিজর-তুরী 
দেই ত সকলি তরু কোথায় সে ভোব । 
একের বিকারে হর  আরের বিকার-লয় 
সঙংসখরের দে€ষ নই নরনের দৌঁষ ॥ 


কালমুখী কুস্তনসা পুরীর পঞ্চম দম্প। 
স্র্পনখ। সর্ববনাঁশী না হয় মরণ । 

অথবা কি দোষ তার কার দেষ নহে কার 
নিজের দোঁবের দোষী রাজা দশশাীনন ॥ 

সকলি বিধির খেলা মিছামিছি যায় বেলা 
কি আর ভাবিয় আমি এভুর কিন্কর । 

বিলম্ব হইলে পরে কি জানি কোপের ভরে 
রাজ-দণ্ড দিবে গলে দশমুওখর ॥ 

হিত বুঝাইতে শিয়ী নয়নে নয়ন দিয়! 
চির দিন গুহ-হীন রাজা বিভীষণ । 

নাজানি কেমন রোৌোষ না জানি কেমন তোঁষ 
প্রভুর মনের গতি জসদণই কেমন ॥ 

৬. 


২৬ 


শর্তিশেল ! 


রাজ-ধর্ রাঁজ-রীতি রাঁজ-দও রাঁজ-নীতি 
প্রভুর প্রজার প্রতি নাই অপ্রতুল । 
পরের কুমতি-হীরী হুরিল পরের নারী 
নিজের মতির কেহ নয় প্রতিফুল ॥ 
জিনিয়া বমের পুরী বিজয়ে ঘোষিলা! তুরী 
ভুবনের শঙ্কা এ লঙ্কার ঈশ্বর | 
নর-বানরের করে সবংশে মরিল পরে 
বিধির মীরণ মন্ত্রে নাই আড়ম্বর ॥ 
শুনিলে শোকের কথা হৃদয়ে হউক ব্যথা 
পরনারী-পরায়ণ তখনি সংবরে । 
আহা! সেই মন্দোদরী স্ুরশীন্তি-সহচরী 
দাকণ তনয়-শৌকে নাজানি কি করে ॥ 
পতির অমন যতি সতীর নাহিক গতি 
পুত্রের প্রতাপ স্থুখে জীবন-যাঁপন । 
ভালবাসা ভালবামি সকলি মুখের হাঁসি 
পত়্ীর প্রণরী রাজা পুত্রের কারণ॥ 
সেদিন অমরাঁলয়ে ছুরন্ত-বাসব-জয়ে 
রাণীর ভবনে দিয়া শুভ দমাচার | 
কত দিকে কত জন লভিল বিপুল ধন 
এবার রাণীর ধরে শুধু হাহাকার । 
এইরূপ তগ্ম-দৃক্ড ভাবিয়া ভবিষ্য ভূত 
পশ্চিম পৃতনা-পুরে দিল সন্দর্শন। 
সাগর ফেণের ছলে নিশ্বসে পরিখা-ভলে 
আবীর বন্ধন বুঝি কপালে লিখন ॥ 


ভূতীয় সর্গ | ২৭ 


হাসির! পৃতনাপতি আঁনিয়। তুরিত গতি 
জিজ্ঞীসির! কুতুহছলে রণ-বিবরণ । 
অআশচন্থিতে শুন্য সুখে: ফিরিলা শিবির-দুখে 
অখকণশ হইতে এই ভূতলে পতন ॥ 
এ কি শুনি অনুচিত বিধি-পন্থা' বিপরীত 
বর-পুত্র ইন্দ্রজিৎ পড়িলা সমরে | 
খেল রে সোনার লঙ্কা স্কুচিল যমের শঙ্কা 
হুঙ্কণরে পুরিল ধর বনের বাঁনরে ॥ 
বুঝিতে কি ছিল আর কে আর ভরসা কার 
গদ] হীতে কুস্তকর্ণ পড়িল যখন | 
তথাপি ভরলা দিয়া নাগপাঁশী ুষ্কারিয়া 
সাধের সমরে শ্লিয়া সাধিলা মরণ ॥ 
ত্রিভুবন শ্ন্যাকার উপায় না দেখি আর 
সংসারে শরণ নাই এ ভয় পাই । 
পরলোকে পুরন্দর ভুবনে বানর নর 
রসাতলে বলি বৈরী কোথায় পলাই ॥ 
নিদাকণ বমদূত ভয়ে ভীত সর্ব ভূত 
লঙ্কাায় সে ভয় নাই রাক্ষসের ঘরে ॥ 
সে ভান ঘুচিল আজি বানরে জিনিল আজি 
শ্শীন হইল পুরী সন্ব্যাসীর শরে ॥ 
জয়-মদে লক্ষ দিয়া নন্দন-কাননে শিয়। 
অআবণে পরিয়। সাধে সম্তীনক ফল। 
ক্পতৰ বিনাশিয়া শজ্জিরা হুঙ্কার দিয়! 
কে আর ভেটিবে শিয়। মন্দাকিনী-কৃল॥ 


২৮ 


শক্তিশেল | 


কে আর বিজয়ি বেশে স্ুরনদী-তীরদেশে 
স্ুর-নন্দিনীর কেশে করিবে বিলীস। 
ভয় নাই ভয় নাই জল মাঝে এস যাই 
না! য'ও লইব বলে বলিয়। সহাস ॥ 
কে আর হুঙ্কীর দিরা পুন্রীম নরকে শিয়া 
জয়-মদে কুস্তীপাঁক নরকে ন"মিয়া | 
পাতকী ধরিয়া করে উঠির1 বিজয়-ভরে 
বৈকু-নগরে তারে দেবে উদ্ধারিয়া ॥ 
চহিয়! যমের পানে কে আর এঁধিক বাঁণে 
যম-দণ্ড বিদারিয়! করিয়া! হুষ্কীর | 
ক্কিযণ বিজয়-তুরী সন্ধিরা শমন-পুরা 
কম্পিত যমানী-শিরে দিবে চর্ণভার ॥ 
কে আর অযৃতাগারে প্রবেশিয়া অহঙ্কারে 
জলন্ত বৈষ্ণব চক্রে দিয়া কর-ভার 1 
ছিন্ন ভিন্ন কলেবর তথাপি অমর্ষ-পর 
জ্বলন্ত অমর-ভক্ষ্যে করিবে থৃৎকার ॥ 
পলাও রে ঘণ্টা-কর্ণ গজ-জঙ্ঘ কাল-বর্ণ 
ব্রঙ্গাশন কাঁল-কেতু পলাঞ পলাও । 
শচীর কষ্টের হার দূরে কর পরিহার 
ইন্দ্রের চরণে ধর ভাল যদি চাও ॥ 
পলাও গো পুরবালা বড় ঘরে বড জ্বালা 
রজ-ঘরে রাণী হওর়! চির দিন নয় ! 
সন্ব্যাসী সীতার পতি চরমে পরম গতি 
পঞ্চব্ঠী চল সতি বিলম্ব না দয় ॥ 


তৃতীয় সর্গ | ২৯ 


পলাও রে বসা-গন্ধ বথায বিজয়ে অন্ধ 
ইন্দ্রের রমণী-পুরী বৃথায় দহিলি। 
সন্ব্যাসী বানর-সৈন্যে লঙ্কীর দহনদৈন্যে 
হুষ্কার সাধিবে আজি কি তার ভাবিলি ॥ 
পরের বিজয়ে বলী পরদস্ে কোলাহলী 
পরের শুনিয়া কথ] নিজের চলন । 
ঘুচিলে মস্তক-ভার হস্ত পদ হান-সাঁর 
পরের মরণে এই নিজের মরণ ॥ 
পরনারী-পরায়ণ পরধন-বিনাশন 
পরসঙ্গে সদ বাদী রাজা দশানন । 
প্রভুর যেমন মতি পুরীর তেমনি গতি 
অনেক পাঁপের পীপা লঙ্কাপুবকজন ॥ 
মভরে বকণ-প্রির। গুহের ভিতরে গিয়া 
মকরাক্ষ তোর ভয়ে কাঁপে থর থর । 
তুই কি না তাঁর নাসা পছ্বাশন্ধ-বহ-বাঁস। 
ছি ডিলি ভূষার লৌভে অধম কিন্কুর ॥ 
ভয়ে ভীত চিত্রর আপনি খসায় নথ 
প্রেয়সীর কর্ণ-ভূষা করিয়া বিদুর | 
তবু তুই লৌভ-মদে করকুল্প কোকনদে 
বর্ষিলি কধির-ধারা সে রাজ-বধুর ॥ 
বসন কাঁড়িয়া নিলি কপোল ছিড়িয়। দিলি 
বিন দৌষে গালি দিলি সন্যীসি-নিকরে ॥ 
সেই পপে সেই তাপে সেই সব অভিশাপে 
লঙ্কার মরণ আজি ন্ব্যাসীর করে ॥ 


শর্তিশেল | 


এই রূপে রক্ষী জন ভয়ে ভীত অনুক্ষণ 
নানা দিকে নানা কথা করে আলাপন । 
গবাক্ষ-বিবর-ভাগে হদয়ের অনুরাগে 
শ্ববণ-কলহ করে আুর-বন্দী জন॥ 
সৈনিকের কল কলে প্রহরীর কোলাহলে 
উদ্বেল হুইয়া বহে জপ্পনা-সাঁগর। 
দক্ষিণে তরঙ্গ দয়া উত্তর বিভাগে শিয়। 
প্রবেশ করিল শেষে রমণী-নগর ॥ 
যুচিলগ তনয়-তরি মিহা আর মন্দোদরি 
সার-সাশর-কুলে বনির। বসিয়া | 
ঘন ঘোর অন্ধকার পশ্চিম ভীষণাঁকাঁর 
ছর্বার অশনি-ভার আইসে গজ্জিরা। 
বুথায় পুজিল' সতী জটিল প্রমথ-প্তি 
পতির কল্যাণে মিছ। দেবী আরাধিলা 
দেব দেবী শিবা শিবে কে বা আর আরাঁধিবে 
বলীর সকলে সখ! হার গো প্রমীলা ॥ 
কে জানে কেমন সতি কালের কুটিল গতি 
কুলের কামিনী কেন কানন-বাসিনী । 
একের কাননে বাদ আরের বিজয়-নাশ 
একের মাথার জটা অপরে যোগখিনী ॥ 
এই রূপে শূন্য ভরে শুন্য-বাণী গান করে 
মন্দৌদরী মহ্থা ভরে পুরীর বাহির । 
চরণে দাকণী লাগে কপাট কপাল-ভাগে 
প্রীচীর বাজিয়া শিরে চমকে শরীর । 


ভূতীয় সর্থ | ৩১ 


শৃন্য-মতি মহারাণী বদন ত্যজিয়! বাণী 
নিশ্বীস-দহন-ভয়ে অন্তরে লুকীয়। 
নয়ন কাতর অতি জীবন পাঁষাণ-মতি 
বন্ধন-বিহীন তরু যাইয়া! না যায় ॥ 
আলু খালু কেশপাঁশ ধলায় ধুষর বাঁস 
কুম্তল ক'পিয়। সারা দেখিয়] শুনিয়া । 
দকণ শোকের ভাঁরে চরণ চলিতে নারে 
চিন্তাপুর ধায় রাণী রাবণ ল্মরিয়] ॥ 
আদুরে প্রমীলা সতী মোহ-ভরে মৃছুগতি 
আকুল ভাবিয়া যেন অকুল পাথারে । 
চির দিন রাঁজ-মানে কখন না শোক জানে 
এ আর বিষন জ্বলা কান্দিতে না পীরে ॥ 
বলবতী ব্যথাঁনদী তরঙ্গ ধরিল বদি 
প্রীস্তারে যাইতে চাঁছে অন্তরে ন। ধরে । 
তাই বা ঘর্ষের ছলে হৃদয়-গিরির গলে 
বর্ঝর ধারায় এ নির্ঝর প্রসরে ॥ 
রাণীর শরীরে বাস অসুখ শাস্তি বারমাস 
দাকণ দয়িত-তাঁপ কেমনে সংবরে। 
বন্ধন যুচিল যার. মে কেন বহিবে ভার 
তাই বা! হৃদয় তাঁপী বসন পাসরে ॥ 
চরণে করধির-ধারা অৰুণ নয়ন-তারা 
বিনা দৌঁষে বিধি বাঁদী জীবনে ন]1 সয় । 
ধুলায় ধুষর শির দয়! নাই ধরণীর 
সিন্দুর মুছিয়া দিলা শৌকের সময় ॥ 


৩২ 


শক্তিশেল | 


কপালে কির ঝরে কঙ্কুণ বিলাপ করে 
বঙ্কাঁর করিয়া কান্দে চরণে নুপুর । 
গল-দেশে মণিহার ছিন্ন ভিন্ন দশসাঁর 
সখীর শোকের শোকে সবাই বিধুর ॥ 
আহা মরি ঠাঁকুরাণী . কে হেন দাকণ বাণী 
কে হেন সময়ে আজি কহিলা তোমায় । 
কান্দে সব নিশাচরী আহা মরি মরি মরি 
য়ের গুণের কথা কহনে না যাঁর ॥ 
বিধির বিধানে ছাই কার ভাগে সুখ নাই 
কে জানে কপালে দিদি কাহার কেমন ! 
রাঁজরাণী রাজ-বালা তার কেন হেন জ্ালা 
কেন বা এমন দিনে কপালে এমন ॥ 
কছিবারে ভয় বাসি কোথাকার সর্বনাঁশী 
শরাঁবিনী একুনছিল অশোকের বনে 1 
দিবা নিশি উপবাসী কাল সুখে নাই হাঁসি 
কি জানি কি তপে জপে আপনার মনে ॥ 
এই ূপে সহচরী কিন্কুরী রজনী-চরী 
রাণীর ভবনে করে মহা কোলাহল । 
পিঞ্জরে সারিকা কাদে. বিনাইরা অনুবাদে 
কল-হৎস কেলি-গহে করে কল কল ॥ 
'অদরে জননা ধায় বাতুল হরিণী প্রার 
কাতর চাতকী যেন মেঘনাদ-শোকে । 
মণিমালা ঝলমল একাঁবলী সুচপল 
চপল চমকে যেন রবির আলোকে ॥ 


তৃতী্ব সর্গ | ৩১৯ 


পুরমারী শত শত পাছে পাঁছে দ্রতগত 
কল্লোল করিয়া যেন জাহ্নবী খেলায় । 

চারি দিকে হাহাৰাণী প্রলয় সমান রাণী 
শোক-দিস্ধু যুবরাণী চরণে লুঠায় ॥ 

ময়দাঁনবের কন্যা রূপে গুণে মহী-ধন্যা 
দেব-রাজ যার পদে বন্দনা-শরণ । 

সে আজি ধরণীতলে ভাঁসিল নয়ন-জলে 
মরণ তোমার কচি কেমন কেমন ॥ 

কে বুঝে কেমন লীলা দশরথে বিনাশিল! 
লঙ্কার হইল ভয় সিন্ধুর বন্ধান । 

যে খেলে সরঘূতীরে সেই তসিন্ধুর নীরে 
কে বলে অসংখ্য বিধি বিধি এক জন ॥ 

এই রূপে ঘরে ঘরে  শ্ন্য-বাণী গাঁন করে 
ছাহাকারে চিন্তা-পুরে চকিলা রাবণ ॥ 

ত্রিপুরীরি পদ-চারে যে পুরে বিশিতে নারে 
সে পুরে আসিল আজি রমণী-রোদন ॥ 

এ কি আর অপরূপ চারি দিক্‌ শৃন্য-কৃপ 
ভাক্কর খপিয়া যেন ধরার পড়িলা । 

শবণে ঝিলীর রব তক্দ্রাভাব অভিনব 
এ এক দিবসে নিশণ বিধাতা গঠিলা ॥ 

এই মে শোকের ভয় হৃদয় শিথিল হয় 
শ্রবণ নয়ন মন সকলি কেমন । 

ইন্দ্রের অশনি-ভার হৃদয়ে সছিল যাঁর 
শোকের সায়কে আজি সেও বিচেতন ॥ 

৫ 


৩৪ 


শর্ভিশেল | 


শরীর-কদলী কীপে বিষম বিষম তাঁপে 
হয়ে প্রবল ধারে বছে ঘর্ম-জল ! 
চরণে কম্পন তায় অবশ সকল কায় 
বসিলা লঙ্কার পতি ভ'বিয়1 বিকল ॥ 
ক্ষণকে চেতন-লয় ক্ষণকে চেতন? হয় 
ক্ষণক পাঁতীলে যেন প্রবিশে ধরণী । 
ধরির1 তরবী-লীলা দশণননে দেখা দিলা 
মহামায়া মোহমরী দেবী পুরাঁতনী ॥ 
কপালে পাহশুর ছটা শিরে শোঁভে রম-জটা 
দ-তার নরন-জল বছে ছু নয়নে । 
কুন্তালে জন্ডিত সুখ নিশা1-শেষে অময়ুখ 
চন্দ্রমী গলিত যেন অশোকের বনে ॥ 
ছিন্ন-মুখ ছিম-কেশ ধুলায় ধুষর-বেশ 
দয়ে পড়িয়া যেন অক্ষয়কুমার | 
করঘগে কৃন্তকর্ণ গত-মুওড হত-বর্ণ 
সহসার-সাঁগরে যেন করে হাহাকার ॥ 
ঘন ঘন বহে শ্বান নিবিড় জলদ-ব?স 
গভীর-শর্করী-শোভ মহাভয়ঙ্করী ! 
শঁবণে স্বপন শর প্রীণি-কুল-ভয়ঙ্কর 
[ৎসার-নাশিনী যেন কা'ল-সহচরী ॥ 
শবনেত্র সকধির  বাঁনরে দলিত-শির 
সোনার সে ইন্দ্রজিৎ শোঁভে পদতলে । 
'অথরে নিষ্ঠর হাসি  দেখিবারে ভয় বাঁলি 
অরি-নারী হানে বুঝি মন্দ।কিনী-জলে ॥ 


তৃতীয় সর্গ। স্ 


শ্টী নাচে পতি-পাঁশে লঙ্কাঁর বানরী হাসে 
ইন্দ্র চক্দ্র রণে যেন করে হুহুষ্কার 1 
বাঁনর়ে হইবে পতি পলায় প্রমীলা সতী 
হাহাকারে লঙ্কা যেন করে হাহাকার ॥ 
এই রূপে মহামারা মোহরূপী দেব-জার! 
রাবণের চিস্তা-পুরে করে মহীরণ ॥ 
হাহা-পূর্ণ অবরোধ শোৌক-ভরে কণ্টরোধ 
কৌপ-ভরে কঙ্কে কথা লঙ্কীর রাবণ ॥ 
কে তুমি কঙ্কাল-মর কবলরূপ্ী অবিনরী 
দাঁকণ স্বমপ্পের বেশে করিলে লঙ্ঘন । 
কে বা তোর উপদেশ দেবের দীকণ দ্বেব 
জীবনে সহিতে নারে রাজা দশানন ॥ 
কি কহিলি সমাচার ইক্দ্রজিত নাই আর 
ইক্দরজিত্‌ নাই মোর তাঁও যদি সর । 
সময়ে দ্বারের দ্বার অসময়ে পর-চারী 
দেবের লঙ্ঘন মোর কু সহ্য নর ॥ 
রহ রহ পুরন্দর এখনো! ত্রহ্মার শর 
এখনে অ্বয়ং ব্রহ্মা রাবণের দারা । 
কুমন্ত্রণা কর সার রহ ১অরে ছুরাচার 
দশগুও-ধারী আমি যমদণ্ড-হারা ॥ 
এখনো সে অমরীর ৰধিরে ব্যথিত শির ' 
এখনো শিরের ব্রণ কেশে ঢাকে নাই । 
এখনে! ব্রণের সাজ  ভগ্র-দস্ত গজরাঁজ 
মস্তকে বহির। মরে শুনিবারে পাই ॥ 


৬৬ 


শক্তিশেল | 


এখনো সে যমানীর  উদ্দেল ময়ন-নীর 
ব্রহ্মার ভবনে করে ককণীা-কখন । 
এখনে যমের দাঁস'. ভিন্ন-কগ হৃত-নাস 
আকাশ-শঙ্গার জলে করে বিল্‌ঠন ॥ 
হউক শচীর হার ছিন্ব-ভিন্ব-দশাসাঁর 
বিধুর-বদন বিধু প্রমীলীর দ্বারে! 
মনে কি পড়ে না তার হশমুও-গদাভাঁর 
স্ুরবধূ-সুখ-মধু সহিবারে নারে | 
সকলি গিম্বাছে যার কি আর ভাঁবন? তার 
কি ভয় যাহীর নাই।সংসার-বন্ধন | 
দেখিবে আমার বল ন্বর্ণ মর্ত রসাতল 
ভুবনে প্রলয় আমি করিবু সাধন ॥ 
করিয়াছি ঘোর পাপ জীবনে পরম তাপ 
মরণে নরকে গতি জ'বনে মরণ । 
গতি মুক্তি নাই যার  রাজভয় নাঁছি তার 
ব্রহ্মীর সেবক আর নহে দশানন ॥ 
জিনিয়াছি দশ লৌক চরমে পরম শোক 
শঙ্কুরা আমারে তুমি দিলে অকারণ । 
'অনেক পুজনে পুজা করিয়াছি অনি-ভুঁজা 
এবার লিন্ধুর জলে দিব বিসঙ্জন | 
শিরে ধর জটাজাল ববম্‌ বাজাও গাল 
আরে রে মাদক-সেবী ধূজ্জ টা কুটিল। 
যার ঘরে করবাস তারি কর সর্ধনাঁশ 
লঙ্কার বাহির তুমি হও রে জটিল ॥ 


ভূতীয় সর্গ | ৭ 


এই রূপে কহে কথ! হৃদয়ে দাকণ ব্যথ! 
ক্ণেক রাবণে যেন সাধিল লয় । 
দাঁকণ বাড়বানল দহিল সিন্ধুর জল 
বিংশতি ধারায় মুখে লবণাশ্ব বয় ॥ 
বিষম বাষ্পের ভার মুহু করে সমুদ্গীর 
দশ মুণ্ডে দশ নাসা বিধির গঠন । 
ঘন ঘোষ আঁচঘ্িত জীব-লোক সশঙ্কিত 
কুড়ি চক্ষু রক্ত-বর্ণ কফিলা রাবণ ॥ 
কোপে কাঁপে দশ-গণ্ড দশ করে রাঁজ-দণ্ড 
দশ-দিগ্‌-জয়ী কাঁপে লঙ্কাঁর রাবণ। 
দশ মুণ্ডে দশ মণি বিষম প্রলয়-কণী 
অপার দহনে যেন করে আস্ফালন ॥ 
আলু থালু পট-বাঁদ  স্ফ,রিত কম্তুর বাস 
সমীপ-পবনে মুহু করে জাগরণ । 
পদ-ভরে পুরী কীপে উন্মাদ অশনি তাঁপে 
মৈনাক ভূধর যেন করে বিচরণ ॥ 
কপালে চন্দন গলে বিশাল বক্ষের তলে 
কাশ্মীর-বনজাকণ ঘর্শ-জল ঝরে । 
কলেবর সজূস্তন অবসম্ন ভুজগণ 
জল-জন্তু চলে ষেন প্রলয়-সাগরে ॥ 
আগে ধায় পুরচরী পাছে ধায় মন্দোদরী 
স্ষণেক রাবণ রাজা ফিরিয়া না চায় । 
দখকণ সংশয়-বেশ শিব-পুরে পরমেশ 
বিকার বুঝিয়! ভাবে অন্তরে লকায় ॥ 


শক্তিশেল | 


কোপে কাপে সতরঙ্গ বিশাল জকুটী-ভঙ্গ 
সৌদামিনী খসে যেন যজ্ঞ-সুত্রগণ | 

মন্দেঁদরী স্াহাকারে তিলেক বারিতে নারে 
উন্মাদ-বিনয়ে কছে রাজা দশানন ॥ 

রহ রহ মন্দোদরি শিবের চরণে ধরি 
শিবের চরণে আমি করি প্রণিপ,ত। 

আণে নহে প্রণিপাত বিনিপাত বিন্দপাত 
শঙ্করীর শারে আগে করি খড়শাঘাত ॥ 

শ্মশানে বসতি করে প্রাণি-সঙ্গ পরিহরে 
নগরে কেমন মায় জানে না কিঞ্িৎ। 

শিবাঁদোষে সব ন্ট. নগরে শ্রুশীন-কন্ট 
নগরে শ্াশান-কষ্ট হা ইন্দ্রক্তিৎ ॥ 


এই রূপে কটু কে সন্তঁপে হৃদয় দে 
দাব-দগ্ধ মহাফণী উদ্দারে গরল। 
শজ্্জন করিরা ধায় অদারে শুনিতে পায় 


অশোঁক-বাসিনী সীতা কণ্প-কোলাহল ॥ 
সৎবরিতে দিগ-বাস বাঘছাল জটা-পাঁশ 
অদ্দুরে পবন-বেগে পুজ্জচী পলায় ! 


শিবা ধায় সহদল পাখী করে কোলাহল 
তজ্ঞিরা! রাবণ রাজা পাছে পাছে ধার ॥ 

'অবসম্ন গলদেশ কম্কাঁল-বিরল বেশ 
নিদ্রিতনয়ন! সীতা চাহিলা নয়নে । 

অধর ভাবিয়! সতী নিমেষে লঙ্কার পতি 


শার্দল বিশিলা যেন হরিণীর বনে ॥ 


ভূতীয় সর্থ | ৬৯ 


বিনা মেঘে বজাঘাত আচািতে উল্কাপাত 
কলোল-নিপ'ত বেন তক্করপতন । 


কালকুট- মহাঁকৃপ বৈধব্য দাঁকণ-রূপ 
স্ম,খে রাবণ করে তর্জন গর্জন | 

এই মে রমণী-পাঁপ জীবনের অভিশাপ 
এই সেই অক্ষয়-কুমার-বিঘাতিনী । 

গধিনীর ঘোররাৰ নগরীর জরা-ভাৰ 
এই সেই সিন্ধুর বন্ধন কলঙ্কিনী ॥ 

যার তরে সর্বনাশ তাঁরি কর অভিলাষ 


পিক ধিক ধিক মোর নরনের তার! 
চিনিতে নীরিলি ওরে ধিক ধিক ধিক. তোরে 
করাঁল-বদমা মোর ক,পাঁণের ধারা ॥ 
নারী-বধে অপনাম কুট-বুদ্ধি তোর রাঁম 
সুপ নখ! নাক কান কাঁটিল নিঘাঁত। 
নাম বটে নারী-চোর কুট রুদ্ধি নাই যোর 
আপাঁদ কাটিয়। তোরে করিব নিপাত ॥ 
তুলিব সকল শোধ ন! মাঁনিব উপরোধ 
সেতু-বন্ধে নিরা তোরে দিব বালি-দাঁন । 
ঘুচিবে সকল শোক রাক্ষমের প্রেতলোক 
সীতাঁর কধিরে কর পারণের পান ॥ 
এই রূপে অনিকরে দশ-মুও কোপ-ভরে 
গজ্জন করিরা ধায় কাটিবারে মন । 
আপনি হরিয়া করে আপনি ভক্জীন করে 
বিড়াল মুষিকা যেন করে আন্দৌলন ॥ 


শাক্তিশেল | 


রহ রহ মহারাজ এ নহে বীরের কাঁজ 
অবধাঁন কর দাসী মন্দোদরী বলে। 

ভাঁগ্য-দোষে ভয় শোক সংসারে দুবিবে লোক 
একের উপরি ক্রোধ আর প্রতি ফলে । 

করিয়া বিবেক-লোপ কোঁপের উপরি কোপ 
ঘটার বিপাকে বিধি গ্রথিবার তরে । 

পদে ধরে কোপ করে লাঙ্ুলে জড়িয়া ধরে 
ব্যাঁধের বাগুরা এই'কেশরা সংহরে | 

ভুবনে কেশরা তুমি অপার-বিক্রম-ভুমি 
রথায় মুবিক-শিশু বধ পরিণামে | 

মারিলে কলঙ্ক' আছে ঘুবিবে লোকের কাছে 
সীতীরে বধিলা রাজ! না পারিয়া রামে ॥ 

দেবরীজ পুরন্দর না সবে যাসার ভর 
করাল কপাণ সেই শোভে কি সীতার | 

ছুর্বার অশনি-ভীর গিরি ভীত ভয়ে যার 
সে আর কদলী-শিরে শেভা নাহি পায় ॥ 

ঘুচিল তনয় তরি কান্দে নাথ মন্দোদরী 
কি কাজ সীতার আর কর পরিহার | 

আপনি হরিয়া নেয় আপনি ফিরিয়া দের 
পরের খেলনা নাহি রাখে পারাবার | 

এই রূপে মন্দোদরী জীবনের সহচরা 
রাবণের করিল প্রবোধ | 

দুরে গেল ঘোর রাৰ স্তম্ভিত সাগর-ভাৰ 
ক্ষণক রাবণে যেন, চেতনের বোধ ॥ 


তুতীয় সর্গ ] 9১ 


কান্দিয়া। আকুল অতি ধরে ধাঁয় সীতা সতী 
সভছ্য় কুীরে তিরোডভা । 
ধরণী সন্তাপ ধরে রাঁবণের পদ-ভরে 
কি আর কান্দিয়! তুমি ধরণীর সুতা ॥ 
বেল! গেল ঘরে যায় মন্দৌদরী ধীরে চায় 
অনাথাঁর বিধাঁতীও নর । 
আপনি জীবনে মরে. পরেরে প্রবোধ করে 
সংসারের এই নে মহান অসময় ॥ 
মলিন-বসন। সতী পদে পদে হত গতি 
মহা শোকে চাছিলা রাবণ | 
অপাঁর তনয়-শোক ব্বর্গেতে দেবতা লোক 
শ্ষণক রাণীর তরে করিল শেখচন 11 
রীজ-ভোগণে চির দিন যায় 
'অনীহাঁরে আজি কত মলিন-নয়ন । 
বিধির বিধান এই থাকিতে উপায় 
অনাথ হইয়া ভাবে রাজা দশানন ॥ 
কার কাছে কান্দি অমি আর 
কোথ1 অরে জীবনের কুস্তকর্ণ ভাই । 
কোথা গেলি মেঘনধদ অক্ষয়-কুমার 
কাঁর তরে কান্দি আঁগে ভাবির না পাই ॥ 


ইতি উন্মীদবর্ণনা নম 
তৃতীয় সর্গ | 


গযব পানে িস্-ঞস্মী ৫. জা 


$ 
ঘ 


চতুর্থ সগ। 


দিবা গেল অবসান পাখী করে শোক 
ইন্দ্রজিৎ বিনা যেন পুরীর শোঁচন । 
মলিন সারম কাল এ দেখা যার 
মলিন-বসন যেন লঙ্কার রাবণ ॥ 


পল্লৰ-শোভার শিয়া শৌভে নব রাঞ্য 
রামের বদনে যেন অধর-বিলাস । 
সন্ধ্যার মলিন ভাবে শৌভে নব রাগ 
সাতার হদরে বেন উৎসীহ-বিকাস ॥ 


ভুবনের জয়ী যেই সেই জয়ী নয় 
বনের বানরা-চমু জিনিল রাবণে। 
দেখিতে পরম তেজ সেই তেজ নয় 
সহজে মলিন সন্ধ্যা জিশিল তপনে ॥ 


পরনারা ডুরি করে রাজা দশানন 
বানর হইলে রাজা নাজানি কি করে। 
বরঞ্চ তপন ভাল দহছিত নরন 
প্রাদোব হইয়া জয়ী ছুনরন হরে। 


চতুর্থ সর্গ | 5৩ 


ঘুচিল পশ্চিম দিকে রক্ত মেঘ-রাগ 
সিন্দুর ঘুচিল যেন প্রমীলার শিরে । 
আদরে কঠোর তানে বিল্লী করে গান 
স্র্পনখ! কান্দে ষেন নিকষা-মন্দিরে ॥ 


কখন হরিণবেশ কখন পর্বত 
সন্ধ্যার মেঘের যেন মারীচের মায় । 
গভীর হইয়া পরে মহা! অন্ধকার 
অণবকাঁশ ব্যাপিল যেন তাঁড়কার ছায়া ॥ 


আপনি আপন তাঁপ সহিতে নারিয়" 
পড্ডিলা ভাক্ষর দেব পশ্চিম সাঁগরে । 
অখপনি দেখিয়া যেন অখপনবর মুখ 
মকরাক্ষ মহাবীর পড়িলা সমরে ॥ 


অতি দর্পে লঙ্কা হত অতি দীনে বলী 
অতি ম'নে কুৰকুল পুরাণে লিখন । 
এ আর নুতন কথা আকাশ-পুরাণে 
অতি তাপে ভীক্ষরের মাগরে পতন ॥ 


হুউক রামের জয় তাহে শোক নাই 
বনের বানরী হাসে এ বড় ভয় । 
বরঞ্চ দিনের ক্ষয় সহিবারে পারি 
পেচক'র কোলাহুল কু সন্থ্য নয় ॥ 


অদূরে ভ্রমর কান্দে জানির। শুনিয়। 
কমলিনা-সেবা কেন করিলা তপন । 


পু 


শক্তিশেল। 


ভুঁবন-বিজয়ী এ পরম পণ্ডিত 
পরনারী-সেবা দোষে পড়িল। রাবণ ॥ 


এই ত সন্ধ্যার বেশ ভজলে তপনে 
আবার চীদেরে কেন ভজ বিনেংদিনী । 
নিশশী নিশীচরী তুই বুঝিলাম সার 

আআ রে আরে স্ুপনখা কুল-কলঙ্কিনা ॥ 


পতি যাঁর দোষাকর বাঁকণী-সেবক 
সে আর রমণী তুমি ছেন না হেস্‌ না। 
কুথার নক্ষত্রমালা পরিলা রজনা 
কুন্ভকর্ণ-বধু তুমি পাট্রিরবদনা ॥ 
হরিয়? বালির 'প্রাণ হুইলা বিজ্রা 
কলঙ্ক তোমার তাহ অছে রযুবর | 
রবির কিরণ তুমি হলিয়া বিজয়া 

র তই অহ শশধর ॥ 
একে বালে মন্দাকিনা আরে বলে জার 
এ এক নদার রূপ গাগন-সণসারে | 
স্বর্গ মর্ত রলাতল ভ্রমিল। রাবণ 
জিজ্ঞাসা করিলে যদি বলিবারে পারে ॥ 


দিবসে রবির ভরে বাক্ছির না হর 

চান্দ্রের উদরে কত হাসে তারাগণ। 
এ এক শোকের জয় পর-জয়ে জয়ী 
রামের উদয়ে জয়ী দেবতা যেমন & 


চতুর্থ সর্গ | নথ 


রজনী-গন্কষের মালা পরির1 রজনী 
বিবুমুখে যুদ্ধ হাসি হাসিল সুন্দর | 
রাজ-ঘরে পিতামহ দিলা পরিণয় 
অদিন বিচার নাই বিধির গেচর ॥ 


উঠিল গগনে বদি কুমুদ-রঞ্জন 
উথলে সরিত. সিন্ধু মহাপারাঁবার ॥ 
পলুল তড়াগ হৃদ কেহ না উথলে 
মানার কেমন মান জানে কি অসার। 


এ কি আর অপরূপ আ্রাণা অচেতন 
ডাকিলে উত্তর নাই কেহ নহে কাঁর । 
শুগীল পেচকা জাগে ঝিলী করে রব 
্ণকে শ্মশ[ন-পুরী হইল সংসার ॥ 


গহনে শীশ্দল জাগে নগরে তস্কর 
অর্িপুরে অরিচর করে সঞ্চরণ ॥ 
গভার হুইর) শোতে মহাবিভাবরী 
দাকণ তনয়-শোকে জাগে দশানন ॥ 
ঘন ঘন শিবারব স্তিমিত সংসার 
টিপির টিপির পড়ে নিশার শিশ্শির । 
পুরীর বাহির হয় রাজা দম্শানন 
শার্দ,ল বনের যেন হুইল বাহির ॥ 


অদরে শ্মশান ঘোর দেখিলা রাঁবণ 
কঙ্কীল-ভ'ষণ বেশ দাীকণ জীস্তরে ॥ 


£৩ 


শক্তিশেল | 


প্রাণী শোকে প্রাণ কান্দে বিজীমুখ দিয়া 
কে আর কান্দিবে এ শ্মশীন-বিবরে ॥ 


নাগ-নর-ষক্ষ-রক্ষো-মহাভয়ঙ্কর 
এই সেই সংসাঁর-বন্ধন-নিসুদন | 
বিধির চরম দণ্ড নগরীর শিরে 
শোক-পিদ্ধু হাহাকার-প্রলয়-ভবন ॥ 


এঁ বুঝি সেই বাঁর ধুলায় ধুষর 

মা যার নিকঘা কান্দে লঙ্কার নগরে । 
জাঁগিতে বাসন নয় জাগীইলা ভাঁই 
অভিমানে নিদ্রা ষাঁয় বিজন প্রীস্তরে ॥ 


এ সেই মহামনা বীরবাহু বীর 

সাধের তরণী এ ধরণী-শয়নে । 

জল বায়ু রবিতাপে দলিত-শরার 
পঞ্চতপ জপে যেন যমের সাধনে ॥ 
গাজ-সুণ্ড মহাভার তুলিতে নারিয়া 
কির মাখিয়। মুখে উল্কীমুখী ধায় । 
নাভিদেশে মৃছু মাংস লেহির়া যতনে 
শবের উদরে শিবা প্রবিশিতে চায় ॥ 
শবমুও কেশ-পাশ গলিত বদন 

'অঙ্গদ বলর-ভাঁর পড়িয়] তলে । 
বিরুত রক্তের আ্োত বন্ধে অবিরল 
শঙগাল শগালী ধার মহ্ণাকোলাহলে ॥ 


চতুর্থ সর্গ | 


বিপুল কঙ্ীল-দার দশনে ঢুষিয়] 


পুতি-শ্বান্ধ শব-পিণ্ে নাসা সংবেশিয়া ( 


মহানাভী পেশী-পাশে বেণী বিনাইয়া 
আদরে পিশাচী কান্দে কধির বমিয়া ॥ 


শবাহুণরে দদা রতি নাহি অবনর 
কোৌতুকে ক্ষণক ষদি মুদিল! নয়ন । 
অধীর শ্গীল-শিশু মুণ্ডমাল! টানে 
সক্রোধে পিশাচ রাজ বিকাশে দশন ॥ 


অপরূপ রূপ এই দেখিলা রাবণ 
অসংখ্য রাক্ষস-সেন। পুরিত ভূভল ॥ 
পিশকটী উঠিয়া চাঁয় ছেরিয়। রাজারে 
শৃশশগীল শকুনি-কুলে পড়ে কোলাহল ॥ 


অদূরে শ্রাশান-পুরে নাচে মহাকালী 
মহীমত্ত মধুমদ্দে গলিত-রসন! ॥ 
শবারোহা মহাকেশী মুণ্মালা গলে 
হুঙ্কারে পুরিত দিক্‌ ঘোর দিগুঁসনী ॥ 


আমারি বিনাঁশে নাচে আমারি শঙ্করী 
এ আর বিষম জ্বালা রামের বিবাদে ॥ 
হীন-বেশ দীন-বাঁস মলিন-নয়ন। 
অদূরে রমণী-বেশে প্ুরদেবী কাদে ॥ 


উঠ বাঁপ কুস্তকণ মাঁদী আমি ভোর 
মা তোর নিকষা ঘরে করে হাহাকার । 


৪৭ 


৮ 


াকিিশেজ 1 


কালি গো ককণা কর চাও মা আমারে 
অনাথ হইয়া কান্দি সাগরের গার ॥ 


স্মরন বিদ্যাধরী সেবিলা আমারে 
আমার বয়নে মা গো কৃত দেখিলাম । 
শৈশবে স্থমেক-শিরে করিলাম বাস 
চরমে কপালে হেন নাহি জানিতীম ॥ 


না জনি কি দোষে সেই বিহঙ্গের পতি 
অকল পাথারে এই ফেলিলা আমারে । 
কে জানে জনক মোর জানে কি সংবাদ 
এক'কিনী ভাদি আমি মহাপারাবারে । 


দেবাসুরে সদা বাদী তুমি ভাছে এই 

ও মা কালি এ যাতনা কানে কহ আর ॥ 
বিবাত' দেখিতে নাঁরে বাদা নরএলোক 
আকুল সাগরে মা গো কেহ নে কার ॥ 
পাইরা রাবণ ধনে উুলির়া সকল 

আজন্ম চু5খিন: আমি ভাসি ম। সাঁগলে । 


এ গো সোনার তরি যুচিল আমর 


এবার সে অভিমান হরিবে বানরে ॥ 


এই কি চরমে ছিল কপালে আমার 
সাগর হইরা পীর বানারে শাসিল । 

অআরচাঁর বিচার নাই নাহি জাতি মান 
বিল্দল শিব-পুজ] সকলি মজিল ॥ 


চতুর্থ সর্গ | 


আমারি বিগুণ তরে প্রসবিলি রাম 
ভাল ওলো দর্বনাশী অযোধ্যাঁনগরী । 
তোমীরো কখন যদি বিধি হয় বাম 
সাগর হইয়া পার শাঁসিবে বানরী ॥ 


ভুবন-জগ্িনী আমি নাহি অভিমান . 
সুখের জননী আমি নাহি ভাবি সুখ । 
চির দিন দাসী আমি ও রাঙ্গা চরণে 
মা গো মা আমীরে তবু হুইলি বিমুখ ॥ 


এই রূপে কান্দে দেবী দাঁকণ মায়ায় 
আকাশ পাতাল যেন কান্দে ত্রিকুবন । 
অপরূপ বাণাঁরবে উৎলে সাগর 
অন্তরে কপট বেশে ,দেখিলা রাবণ । 


শবাঁশন1 মামার] দয় মায়া নাই 

এ আর কুটিল কালী কাপত কাঁতরে। 
দেবারে বধিতে ধায় হুঙ্কারিয়! ঘোর 
অকাল-উভৈরব বেশ ঘোর অনি করে ॥ 


শিবের শঙ্করী আমি মহ্াকাঁলী নাম 
রাক্ষসের মাথা খাই গুকর কৃপায় । 


আ রে আ রে সর্বনাশী ভৌজনের কাঁলে 


রাম নিন্দা কর তুমি তাঁপিরা আমার ॥ 


শব রূপে সদাশিব চরণে আমার 
শবের প্রেরপী আমি শ্মশানের প্রিয়া । 
প 


৪৯ 


৫৬ 


শক্তিশেল | 


চির দিম অভিলাষী রাক্ষসের শবে 
অপাঁর দরালু রাঁম দিলা জ্টাইয়া ॥ 


এই রূপে মহাকা'লী কছিতভে লাগিল 
তক্্ন গর্ডনে কাপে আকাশ পাতাল 
প্রাণভয়ে পুরদেবী করে হাহাকার 
'অলোক-বিদিত এই শোকের কপাল ॥ 


কে"থা অরে মেখনাদ ডাকি আমি বাপ 
কালীর কুটিল কোপ প্রাণে নাহি সয় । 
তোর পৃজা-ভালবাসা ভোরি মাথা খায় 
জীবনের ব্ঞালী এ মরণের নয় ॥ 


সাগর হে তব তীরে কত দিন আর 
অনাথ অবল! আমি সা এ যাতনা | 
রাখ রাখ রত্বাকর এ ঘোর বিপদে 
বধির হইলে তুমি শুনিয়া শোন না ৪ 


দেব দেব জরী তুমি,অহে ষাঁদোরাজ 
প্রলয়ের কালে তুমি শীসিলে ভুবন ! 
হ'হাকার করি আমি চরণে তোমার 
জাবনের বাস তুমি না রাখ জাবন॥ 


ডাকি অঙ্কে জলনাথ কত বা ঘুমাও 
পাষাণ জাশিল দেব আমার রোদনে । 
দ্রৰময় হুমি দেব তুমি না জাগিলে 
কলঙ্ক তোমার এই রছিবে ভুবনে ॥ 


চতুর্থ মর্গ| ৫১ 


নয়ন মেলিয়] চাও ও নীল-বদন 
বিদেশ বিভ্ীমে এই তুমি হে আমার । 
পিতা সে পাবাশ মোর দিল বনবস 
এ ঘোর বিপাকে বাঁপা ভুমি পারাবার ॥ 


কল্োলে কখিত দেব মহিমা তে"মার 
তোমার সলিলে শারী রবি-শশবধর । 
আপনি আকাশ-গর্গ৷ী বরিলা তেমারে 
অপার সাগর তুমি দয়ার নাগর ॥ 


বহু দেশ বহু দিন করিয়া ভ্রমণ 
অপার সে শিরি-বন করিয়া লঙ্ঘন । 
নব-জলধর-ব্ধূপ দেখিতে তোমার 
কলোল-কলহ কলে করে নদীগণ ॥ 


অদূরে তরঙ্গ ধায় মহাফশি-রূপ 
অপার-গহন-রূপ ঝোঁজনের দুরে | 
উথলে বিপুল জল মৈনাকের রূপে 
অপার ভৈরৰ তুমি সংলারের পুরে ॥ 


খরতর জ্ধোত এই ঘন শোর ভব 
এ কুল ও কল নাই কাঁরে আর কই । 
এই এস এই যাও কেন বা ছ্গিয়! 
তোমার চরণে বাপা দশসী আমি হই ॥ 


কি স্থাখে কপাল জুই ত্যজরা মরণে 
অমর হইলি এ বিধীষ্তার বরে । 


৫২ 


শ্তিশেল | 


অকৃল সাগরে আমি ভাসি চির দিন 
অকূল সাগরে ডাকি অকুল সাগরে & 


এই রূপে পুরদেবী কান্দিয় কান্দিয়। 
কালী-ভয়ে ঝাপ দ্রিলা জলির জলে ? 
দাকণ শিবার রবে চকিত-নয়না 
শিখিনী বিশিল যেন কেশরীর তলে ॥ 


প্রথমে রমণী-রব তদনু গজ্জন 

তদন্থু সিন্ধার জলে ঘটিল প্রমাদ। 
পিশাচী দেখিতে ধায় সাগরের কুলে 
অকণ-নয়না কালী কহে কটু বাদ ॥ 


খমসিল ক'ঞ্চন-লতা ডুবিল চপলা 

এ আর আলোক-রেখা দেখ লো সাঁগরে। 
নিশাবেশে বড়বার শিশু কুল-বণু 

বিলাস খেলার বুঝি সাগর-গহ্রাব ॥ 


কে বলে গভীর জলে তিমি তিমিঙ্গিল 
এ আর কাহার রূপ জাগিল অন্ত্রারে । 
শশ্শিশোভী মণিশোভা মিলিবা দুজনে 
সাগরের জলে যেন জল-কেলি করে ॥ 


অপরূপ রূপ এই কে দেখিবি আয় 

আয় গো সকলে ভোরা শ্মশন-বাঁসিনী | 
রূপের লঙ্করা কান্দে জলধির কুলে 

ক্র গৌ দেখিবি তোরা পিশীচ-নন্দিলী ॥ 


চতুর্থ সর্গ | ৫৩ 


এই রূপে দেবীরূপ ছেরিয় সখগরে 
অধীর পিশাচীকুল করে কোলা হুল ॥ 
আচশ্বিতে অপরূপ ঘনঘোর ভাব 
উদ্বেল হুইল যেন সাগরের জল ॥ 


জাগিল গভীর জলে তিমি তিমিঙ্গিল 
উদ্বেল হুইল বেগ দক্ষিণ পবনে | 

আপনি যৌজন দূরে জাখিলা সাগর 
কালীর গজ্জনে আর দেবর রৌদনে ॥ 


নব-জল-ধর-ব্ধপ জাঙ্খিলা সলিলে 
শজ্জ্বিয়া আকাশ-পথে নীচে জল-ধর | 
ফেণ-মলা সরভসে জাগে চারি দিকে 
হুক্কারে ঝঙ্কাতর জল বছে খরতর & 


মকর কুন্ভীর ধায় ধায় জল-গজ 
শিরি-খও শত বেন ধায় পখরববারে । 
আপনি কল্লোল ধার দেখিতে দেবেরে 
জখ্ক্কুবা-শতক যেন ধার হুহুষ্কীরে ॥ 


নাঁসা-বেগে মহ্াতিমি ত্যজিলে গজ্জন 
আকাশ ব্যাপিলা ধুম নিশ্বাসের ভরে । 
জল-নিশাচরা এ ব্যাদিয়া বদন 

কলেল এপ্রাসির। মুখে হা হা নাদ করে 


অপরূপ রূপ এই দেখিলা রাবণ 
নালকাণন্ত মহামেক জাশিল। সাগরে । 


৫৩] 


শরক্তিশেল | 


নয়নে অৰকণ-রূপ তারকার ছবি 
পদ্মরাগ-মণি শোভা জিনিয়া সঞ্চরে ॥ 


আদরে পাঠীন ধায় দন্ত বিকাশিয়া 
পিতার পাইর] দেখা বহু দিন পরে । 
স্ফরী কপোলি-তলে উঠিবাঁরে চায় 
অপার নয়নে দেব চাহিলা! আদরে ॥ 


আহা মর সাগরের নাহি অবসর 
কাহারে সম্ভাষে আগে কাহারে রাখিয়া । 
আছ; মরি সাগরের বহু পরিবার 

দাই সলিলে দেব রছে লুকাইয়" ॥ 


সভতত গভীর-ভাঁব সিন্ধু-গ,হিবর 

বিরাগ কাহারে নাই সাজে গ্রলীশ । 
দলে দলে ভাসে জলে কর্ম কুলারক 
প্রধাল প্রবালী সু ভানে নলর্মীন ॥ 


সহসা বাডিল বেলা উলিল দিক 
পর্ববত-কন্দর-কুল করে প্রতিনাদ 1 
ঘন ঘোর ঘন-ঘটা ব্যাপিল সংলার 
গাক্িয়া সাগর দেব কছিলা সৎবাদ ॥ 


ঘোর বিভাবণ এই ল্ঙ্কীর শ্বাশশান 
পের ভর়ঙ্করী তাছে মন্া বিভাবরী ] 
ঘোর বিভীষণ এই সাগরের কূলে 
কে তুমি কঙ্াল-ময়া মহা ভয়হরা ॥ 


চতুর্থ সর্গ | ৫৫ 


মধু-মদে গত-মতি শোণিত-রসনা 
গভীর কালি মা-রূপ অলি করতলে। 
অনুভবে বুঝিলাম মহা কালী নাম 
শিবের শঙ্করী তুমি কপাঁল-কুগ্ডলে ॥ 


কে আছে রাজার এই অকুল সংসারে 
তুমি বিনা আমি বিনা শিব বিনা আর । 
আমি দস ভয়ে বাদী রাঁমের বন্ধনে 
তুমি কালী নিজে বাঁদী হইলে রাজার ॥ 


বন্ছু-পরিবাঁর আমি রহি লুকাইয়া 
গৃহীর বিবাঁদে ভয় আছে চিরকাঁলি । 
শিব শিবা গৃহী নছে তবে কেন ভয় 
কল্যাণ রামের তুমি কেন ভাঁব কালি ॥ 


এ কি দেখি মহাকালি মেঘনাদ-শ্শির 
কুম্তকর্ণ-কর-যুশ দশনে তোমার । 

চির দিন পুজে যেই নানা উপহথারে 
মৃত-মাংসাঁশিনী তুমি মাথা খাঁও তাঁর ॥ 


আহা মরি রাঁবণের কেহ নাহি আর 
আকুল শরণীগতে ত্যজিলে শঙ্করি । 
রাখিতে জরীর মন এতই কি হয 
সন্তানের মাথা খাও অছে ভরঙ্করি ॥ 


বুঝিলাম রামচন্দ্র প্রত সে তোমার 
প্রত্ভুর সাধন! কালি মহ বিড়তঘনা | 


শক্তিশেল। 


রাখিতে প্রভুর মন পিতা বিভীষণ 
সে দিন তরণী-বধে দিলা কুমন্ত্রণ1 ॥ 


নিজ হিত নাহি ভাবে সেই ত সন্ব্যাসী 
সেই ত সংসারী যছে নহে এ বিচার | 
প্রিণীম ভীবে যেই সেই প্রতভুমীন, 

সেই সে সংসারী তুমি বুঝিলাম সার ॥ 


অধ,নেরে দর৭ ভান জয়ীরে গ্রণাম 
সন্ন্যাস-বিরাগ ভান উন্মীদ-ভজন! । 
তোমা বিনা এ জগতে কে আছে সংসারী 
সংসার ছলিতে তুমি কর বিড়ম্বনা ॥ 


দেবা ছও দেব হও তাঁছে শোক নাই 
সংসারের বড় হও না করি বারণ । 
ভগ্নবতি ও চরণে চাহি বর দাঁন 
আমার শরণীগ্রতে না কর তর্্জন ॥ 


এই রূপে জলনিধি কহিল সংবাদ 
তর্জ্জিয়1 গঞ্জিরা কালী করে আস্ফালন 
সলিলে নামিতে ধায় নামিতে না পারে 
কুস্তীর-মকর-বধু ব্যাদিল বদন ॥ 


দরী ডাকে গুছ ডাকে জলধির ডাঁকে 
পঞ্চাশ যোজনে ডাকে জল-কোলাঁহল। 
ঘের প্রতিনাদ এই স্তম্তি য়! সহস। 
উন্মাদ বচনে কালী কহিল! বিহ্বল ॥ 


চতুর্থ সর্গ । ৫৭ 


বিষম বর্ধর এ লবণ সাগর 

আয় রে পিশাঁচী তোরা ঘরে আমি যাই ॥ 
বিনা দোঁষে গলি দিলি অরে বাচাটক 
শহরে বলিয়া আগে তোর মাথা খাই ॥ 


কে বুঝে আমার লীলা আমি মহ্াকালাী 
লঙ্কীর নগরে রহ রাক্ষসের ঘরে । 
শ্মশশীনে মশানে থাকি মৃুত-সুও খাই 
বর-পুত্র মেঘনাঁদে তরিবার তরে ॥ 


শুৰ লস্বু না চিনিলি অরে অগম্ভীর 
সংসার শুবিব তোর সলিল-দঙ্কার ? 
জানি অরে জলনিধি জানি আমি তোরে 
ব্রহ্মার বরেতে তুই হইলি অমর ॥ 


এত যদি কহে কালী কুপিল। সাগর 
গজ্জ্রিয়। উঠিল ফেণ মহানীল জলে । 
সকোপে কুক্তীর চায় মাথা ল.কাইরা 
অস্তরে বাড়বানল ধক ধকজ্বলে ॥ 


অনস্ত-মহিমা ভুমি কে জানে তোমায় 
জানি অগ্ো ভগবতি যাও তুমি যাণ ॥ 
স্বরূপ তোমার কালি স্ববিবে জগতে 
যার ঘরে থাক তুমি তারি মাথা খাও ॥ 


জানি সে শঙ্করে শিবে জানি সে শঙ্কুরে 
শঙ্কর ভিখশরা সেই মহ্থামদ-জেবী 
০ 


৫০ 


শক্তিশেল | 


জানি আমি জানি সেই মহ্থাভোলা নাথ 
সঙ্গমে বরিল মোরে গঙ্গী যার দেবী ॥ 


যেখানে যাইব আমি সেই খাঁনে বারি 
কি অর শুষিবে এ পিশাচীর দল। 
জাগ রে পর্ব তরূপী জল-নিশ'চর 
জাগ রে মকর মক্র তিমি মহাঁবল ॥ 


এই রূপে কহে যদি লঙ্কাঁর সীগর 
পিশীচ পিশাচী সহ কুপিলা শঙ্করী | 
যন-ঘোর বীরভদ্্র জশিল। সংগ্রামে 
অপার শস্ত্বিনী-নদী বহে ভয়ঙ্করী ॥ 


ডাক দির জলদেব ডাকিলা পবনে 
অকাল অলয় কালে ডাকে পালাবার । 
কুশদ্বীপে নিদ্রা যার 'প্রলয়ের বায় 
ঘর্ণিত শরারে জাগে করিয়। হুঙ্কার ॥ 


কোন. দিকে কালী-সেনা পলাইতে পারে 
গজ্জ্বিয়া প্রলয়ে এই কছিলা সাগর ॥ 
শম্ব্যশ্ড জলধর প্রলয়ের ভাঁকে 

ঘেরিল দক্ষিণ দিক্‌ পূর্ববাপরো ত্র ॥ 


প্রথমে যোজন দূরে করল গর্জন 
ঘর্ণিত প্রলয়-বাত সাগরের জলে। 
উথলে জলধি নাল আলিঙ্গন তরে 
আপবর-লহরা-লীলা-কেলি-কেখলাহুলে ॥ 


চতুর্থ সর্গ। (2৯ 


উডিল বালুকারাশি সাগরের কুলে 
সম্ভমে নয়ন-যুগ ঢাকিল শঙ্তিনী । 
নয়নে বছিল নীর প্রথম সংগ্রামে 
কোঁপীন উড্ডিরা গেল ভাবে কপালিনী ॥ 


ঘোর বিভাবরী এ ঘেরিল নয়ন 
সম্মুখে সাগর ধার প্রলর গজ্জনে । 
বিরাবী পবন-বেগ হরিল চেতন 
শঙ্িনী যুরিয়া পড়ে বালুকীবর্ষণে ॥ 


বিন। দোষে ভূধরের ভাঙ্গিরা শেখর 
গর্্জর1 পঁলয়-বাত পাডিল সাগরে । 
বনু পরিবারে তৰ পবনের ভরে 
অকুল সাগরে গিয়া প্রণিপাতি করে ॥ 


বছিল সাগর-জল লঙ্কার স্মশীনে 
তমাল-গহুন-নীল-শিরি-কলেবর । 

কাঁর অপরাধে এই কার সর্বনাশ 
শগাখল--এ্রগীলী-কুলে ধরিলা সাগর ॥ 


কল কল জ্োত তাঁর খরতর পাক 
অপার সিন্ধুর জল করে চংক্রেমণ | 
গৃধিনী সলিলে ধায় ভুবিয়া ভীসিয়া 
কল্লোল কলহ ভরে করে আবর্তন ॥ 


গিরিচ্ড়া শাখি-শাখা গহন কান্তার 
জলন্ত পশু পক্ষী ভাদিল সাগরে | 


শরক্তিশেল । 


আপনি সলিলে ধায় লঙ্কার শ্মশান 
সংসার গমনে সিন্ধু ধায় বায়,ভরে ॥ 


অদূরে কপির কুলে পড়ে কোলাহল 
গভীর সিন্ধুর নাদে জাশিলা সুগ্রীব | 
শশব্যস্ভে হনুমান উঠিয়া চহিল 
শয্যার ভিভরে খেলে সাগরের জীব ॥ 


একে ত সুষেণ বুড়া দেখিতে ন। পার 
গভীর তামসা তাঁছে সাথিল প্রমাদ ॥ 
বানরে ভাবিয়া চোর করে গালাগালি 
সাগর হরিয়া কন্থা' করে ঘোর নদ ॥ 


কড় কড় ঘর ঘর মহা মেঘনাদ 

বিছ্যুৎ খসির! পড়ে সাগরের জলে । 
কপালে কপাল বাজে দশনে দশন 
কালী-সৈন্য ধার বেগে মহাকোলাহলে ॥ 


বেগে ধায় কালী-সেনা করিয়া লম্কন 
কাঁলীর চরণে জল করে ঘর ঘর 
সহস! ধরিল। কালা মহাগণিরি-রূপ 
অপার প্ুলিন রূপে ঘেরিলা সাঁগর ॥ 


কুচতটে জলরাশি করির1 আঘাত 
সুদূর সাগরে গিয়া রে পরাহত । 
ধরিয়া আপন বেগ ধায় পুনর্বার 
কল্লোল সঙ্হায়ে ধার কলোলের শত ॥ 


চতুর্থ সর্গ | ৬১ 


মহা পরাঠভবে এই ৰকধষিলণ সাগর 
গর্জ্িয়া কালীর দেহে পড়ে মহ্াবীর । 
সহসা কম্পন-বেগে খসিল সলিলে 
কালীর দশনে শেভী মেঘনদ-শির ॥ 


পরাভবে মহাঁকীলী নমিলা বদন 
শজিরিরা সাগর দেবকরে জয়-নাঁদ। 
আচম্বিতে রণ-বেশ ত্যজিলা শঙ্করী 
ভুবন-মোঁছিনী বেশে কহিলা সংবাঁদ ॥ 


সাগর শিবের অংশ গিরিজা-সঙ্গমে 
আমি শক্তি জানি সেই শক্তির আঁধার । 
ছলন] আমার এই কহিতে লঙ্কারে 
কাঁলিকার মহীরণ শুভ সমাচার ॥ 


এত যদি কহে কালী বীরভদ্র মুণ্ডমাঁলী 
পিশাচ পিশীচী সহ মেণে লুকাইলা | 
কালীর ব্ূপের ছটা! লকাইল ঘনঘট' 


ক্ষণক সাগর দেব আকাশে চাহিলা ॥ 


ভবনে গমন-সুখ ফিরিলা সাগর । 

ধীরে চঁছে পুরদেবী কান্দিয়া কাতর ॥ 
আদরে কহিল। দেব বিদায় বচন । 

হেন কলে দেখ! দিলা রাজা দশানন ॥ 


ইতি 
কালীসাগরসৎবাদ নাম চতুর্থ সর্গ । 


পঞ্চম সর্গ। 


দেখিতে পরম সাধ দেখিবার নয় । 

অপার সাগরে এই অকাল প্রলয় ॥ 

এই সে প্রলয় ভয়ে ভাবে গীহী জন। 

কি ভর আমার নাই সংসার-বন্ধন ॥ 

এস হে সাগর ভাই আমীর ভবনে । 
অকাল প্রলয়ে আজি মিলিব দুজনে । 

কে দিল এমন শাপ কহিতে ডরাই। 

অর সে আমার ঘরে মেঘনাদ নাই ॥ 
রাজ-রংজ রবি শশী জিনিরা সংসারে । 
নিশীযধোগে কান্দি আমি পারাকীর-পীরে ॥ 
কে আছে এমন বার জগতীর তলে । 

কে আর ছুর্গত হেন ভুবন-মওলে ॥ 

অথ উর্ধে কিছু কাল শেষে ধরাঁধারে । 

এ আর কন্দুক বিধি খেলিলা আমারে ॥ 
চরমে দাৰকণ কথা যুবিল ত্রিলোকে। 

পশু কান্দে পাখী কান্দে রাবণের শোকে ॥ 


পঞ্চম অর্গ | ৬৩ 


অকখলে নয়ন-হীন কান্দে মন্দেদরী | 
এ আর লঙ্কাঁর ঘরে দিবা বিভখবরী ॥ 
বিজন কঙ্কাল-ঘোর শমীতৰ মুলে ॥ 
আপনি নগরী কান্দে অকুলের ক,লে ॥ 
ভবনে প্রমীলা কান্দে কখন্দে মনোহরা । 
অঞ্চলে ধরিয়া মার কান্দে সহেোদরা ॥ 
বিপদে বিপদ্‌-ভার ষুচিল তনয় । 

গভীর তাঁমসী তাঁছে জলদ-সঞ্চয় ॥ 

দম্শ ধারে ধার মন পুরীর ক্রন্দনে | 
তীর-তৰু ধায় যেন ঘোর আবর্তনে ॥ 
আর ন! রাখিব সীতা! দিব পরিহার । 
বিন! দেখবে মন্দোদরী মজিলা আমার ॥ 
শমনে জিনিতে নারে কপি করে রণ। 
যেমন বিজয়ী আখমি তেমনি মরণ ॥ 
অশরবনে বধির ভাব হদয়ে বিকার । 
বিংশতি নয়নে বারি পুরিল আমার ॥ 
কান্দিতে বাসনা! নই কান্দিতে না জানি । 
তিলোক-বিজয়ী আমি তাছে অভিমানী ॥ 
উথলে নয়ন-বেগ বিধির কৌশলে । 
অন্তরে আমার এ দাবানল জ্বলে ॥ 

কি করি সাঁগর ভাই বল না কি করি। 
অস্তরে রহিল শেল কেমনে সৎবরি ॥ 
অভিমানী আমি রে অবোধ সহোদর | 
বুঝিতে নবরিলে ভাই গেলি পর ঘর ॥ 


৬৪ 


শক্ভিশেল | 


লঘু পাঁপে গুক দণ্ড সাধিলি মরণ | 
দাকণ পাষাণ তুই ভাই বিভীষণ ॥ 
ভাই ভাই এক অঙ্গ বুঝিতে ন'রিলি । 
আপনি আপন কোপে আপনা হিৎসিলি ॥ 
জাগ ভাই কুস্তকর্ণ জলধির তটে। 
রামশরে হত লঙ্কা দেখ রে সঙ্কটে ॥ 
কার শরে হেন দশ মলিন নয়ন । 
গলিত কঙ্কাল ভাই দাকণ দশাঁন ॥ 
কি দোষে দাকণ তুই পঁছিয়া প্রান্তরে | 
কার তরে অভিমানী জনন:র ঘরে ॥ 
এ কুল ও কুল এ আছে পারাবারে । 
মহারবি অস্তশত আমার সংসারে ॥ 
দেহ রে জন্মের তরে দেহ আলিঙ্গন । 
আকুল সাগরে ভাসি অরে সম্তরণ ॥ 
কেন বাঁ অমরাপুরা জিনিলি দে দিন । 
কৈরর জনতা মাঝে আমি বন্ধু-হীন ॥ 
বিষম বিজন বাঁস সহিতে না পারি । 
মহান সংসারে আমি মহাবন-চারা ॥ 
বরঞ্চ শ্বাশান বাসে রহ্ি বাব মাস । 
কো প্রাণে সহি রে বৈরার উপহাস ॥ 
এই রূপে রক্ষোনাথ করিলা বিলাপ । 
পরম বাচাল সেই হৃদয়ের ভাপ ॥ 
নয়নে বিহান রাগ হদর ধর্ষণে | 
শমীতক দহে যেন নিভূত দহনে ॥ 


পঞ্চম সর্গ | ৬৫. 


সহসা গম্ভীর ভাব গলিত চেতন । 

উন্মাদ বচনে পুন কহিলা রাবণ ॥ 

ী রে কনক-পুরে কন্টকা শন । 

অপার গ্রহনানলে ব্যাপিল গগন ॥ 

মহ্থামরীচিকা এ ঘেরিল সংসার । 

চারি দিকে মহাঁমক মহাঁপাঁরবার ॥ 

এ রে শার্দূল ধার এ রে কেশরী। 

ইন্সিতে হইল শেষ কনক-নগরী ॥ 

কে ' আছে আমার এই বিজন সঙ্গরে । 

সঙ্কটে জীবন বায় শবরের শারে ॥ 

কে আছে কোথণয় আর কাঁর করছে যাই 

এ ভয়ে ভাবি আমি ভাবির! না পাই ॥ 

চারি দিকে সলিল-মাজ্জার পালে পালে । 

পড়িল জীবন-মীন কুম্তীলক-জ'লে ॥ 

চরমে জগতে ভাল ঘোষণা যুষিল | 

অকালে কপবল-গুণে কালী পলাইল ॥ 

চারি দিকে ঘোর-নীল সলিল-সংহতি | 

তাহাতে হইল ভুমি তাহাতে ভূগতি ॥ 

সেই সেভপতি আমি করি দিথিজর 

চরমে কপির করে সমূলে বলয় ॥ 

কে যেন ভুপ্তিবে এই কনক-নশরী । 

ববল-মণিক-মুক্তা-মণি-সহচরী ॥ 

কার ঘরে মন্দ্বেদরী চলিবে আমার । 

এঁ ভয়ে আরো ভাবি অহ পাঁরাঁবার ॥ 
টু 


8৬ 


শক্তিশেল | 


নয়নে অৰণ-রাগ দশনে বিভাতি। 
একে ত বাঁনরী-সেন? তাকে সেনা-জাঁতি। 
বন্দিনী রজীর বধ পরের ভবনে । 
বিলুন-বসন-বেশী মলিন নয়নে ॥ 
নিভৃত শ্রহারে আর কটু সম্বৌধনে । 
কত যে যন্ত্রিত পথে সেই ভাবি মনে ॥ 
সুর-বধ্‌ গত-ভরা নন্দনের বনে । 
কত যে কহছিবে কথা সেই ভাঁবি মনে ॥ 
বিপদে পড়িলে লোক দয়া না ভাবিকে । 
সাগর হে সে শোক কি জাঁবনে সহ্িবে ॥ 
বরঞ্চ রামের বাণ লহিবারে পারি 1 
কোন্‌ প্রাণে সহিব দেবের টাউ কারি ॥ 
মণি-কনকের মারা চিনিতে নারিবে । 
বানরে ল্‌ঠিবে পুরী কেমনে সহ্ছিবে ॥ 
এহ দূপে কছে শোক রাজা দশানন। 
ৰারি-ধীরাবিপৃণীবিত বিৎশতি নয়ন | 
কহিতে কহিতে কথা হইল 'প্রলয় । 
রাজার শরীরে শোক কত আর সর ॥ 
হৃদয়ে হদয়-তাপ মুহুকদ্দাপন । 
প্রলয় বচনে পুন কহিলা রাৰণ ॥ 
বিষম সংসাঁর-ভার সহিতে নারিয়! | 
এ ঘোর সময়ে ভাই গেল পলাহয়। ॥ 
এত কি আমার ভার কেন বা সহ্িব | 
আমি রে এমন পুরে রহিতে নারিব ॥ 


পঞ্চম সর্শ ৬৭ 


কবজ কি সাগর ভাই কথার বিবাদে ॥ 
এখনি আমার সেই ডাক মেঘনাদে ॥ 
ভুবন- ভুপতি পদে হেরিয়] কুমারে । 
মহ্াস্সুখে মন্দোদরী রহিবে সংসারে ॥ 
কার তরে কান্দি আমি কারে আকিঞ্চন । 
যা হোক হইবে যার কপালে যেমন ॥ 
তোমারি ভবনে ষাঁই রহিব যতানে ! 
বুথাঁয় বিবদ আর বানরের সনে ॥ 
তমোরাশি ধীরে ধীরে ঘেরিল নয়ন । 
আর নব করিব আমি নিশা জাগরণ ॥ 
কহিতে ন! পাঁরি আর মুদিল চেতন | 
কেভুকে সলিলে অজি করিব শয়ন ॥ 
এই রূপে কহে রাজা কহিতে কহিতে 
মহামোহে সুপ্ধমতি ধায় ধরণীতে ॥ 
ক্ষি কর কি কর দেব সংবর সংবর । 
সম্মুখে লবণ-বরি বন্ধে খরভর ॥ 
মকর-কুন্তীর-বাস মস্ণভয়ঙ্কর 1 
সংসার-বজ্রিত আমি লবণ সাগর ॥ 
দেখিলে যারে লোক মহাঁভয় গণে । 
সেই সে সাগর আমি রছহি এ বিজনে ॥ 
ভুঁবন-বজ্জিত এই লবণ সাগরে । 
বায় জরিয় তনু পুলিন-ককরে ॥ 
কস্থম-শয়ন তুমি দিব্য-কলেবর । 
লঙ্কার কুস্থমাগার নহে দূরতর ॥ 


৬৮ 


শক্তিশেল | 


এতেক কহিয়া সিন্ধু বাড়াইলা কর ॥ 
ধরণী শরনে ধায় লঙ্কার ঈশ্বর ॥ 
সললে থাকিয়া সিন্ধু ধরিলা কৌশলে ॥ 
জাম্বনদ বাল রচত করতলে ॥ 
বিমানে কৌতুক-ভরে দেখিলা দেবত। ॥ 
পক আকাশ-পথে হইল জনতা ॥ 
শতধারা বহে সুখে দ্রুত বহে পদ । 
এ আর পাঁগরে ধায় দশ-মুখ নদ ॥ 
মহ্াতাঁপে বাসবারি রাজা লঙ্কেশ্বর ॥ 
মৈনাক ভধর যেন ধর্রলা সাগর ॥ 
করে ধরে পারাবর চাহে দশানন । 
গ্বোধ শোকেতে যেন হয় সভাজন ॥ 
দূরে গেল যোহ-মেঘ সুশ্শ'তল করে। 
শান্তর আকাশ এ জাশিল অন্তরে ॥ 
কাতরে বোধ দানে পরম সত্বর ॥ 
গন্তীর মধুর ভাষে কহিল? সাগর ॥ 
এ কি কথা শুনি আজি লঙ্কেশের মুখে । 
আ রে আরে জলাঞ্জীলি সংসারের সুখে ॥ 
কে জানে কেমন দেব মারার সংলার। 
সংসার-বিজয়া তুমি কর হাহাকার ॥ 
পুকষে রমণা-ভাব শোকের সীথনে । 
শৈশব-সুলভ ভাব মন্ছাবার জনে ॥ 
কেমনে নিজের গুণ নিজ ঘুখে বলি! 
অন্তরে বাডব জলে তবু না বিচন্নি॥ 


পথম সর্গ | ৬৯ 


পৃথিবা সরির। যায় হেরিলে আমারে ॥ 
দেই পেসাগর আমি রহি পারাবারে ॥ 
আমার সম্ভৃতি এই জল-জন্তু-চর । 
বিদ্বেবা ওদের এ চরাচরময় ॥ 

কেন বা কছিব শোক কাহারে বা! কহি। 
আপনি আপন শোক মনে মনে সহি ॥ 
আখের সকলে ভাগা শোকে নাহি শোক । 
বই দাঁকণ দেব সম্সরের লোক ॥ 
অপরূপ হৃদয়ের অনলের ভার । 
নয়নের জলে তার নহ্ধে প্রতীকার ॥ 
অতি অপরুপ এই নয়নের বারি । 
বৈরার সন্তাপ-হারী আত্ম-নাঁশ-কারী ॥ 
সহজে নিক্ষুল দেব সর্ব লোকে জানি । 
শোকী'র প্রলাপ আর ভিক্ষুকের বাণী ॥ 
বিষম রহস্যভেদী ক্রোধ আর শোক । 
পরের অ্রলপে আখা সংসারের লোক | 
সহাজে ককণ হলে সুখিত জুবন। 
থাকুক অন্যের কথা সুখী স্ুধীগ্রণ ॥ 
এখনি জাশিবে অরি হাঁসিবে আকাশ । 
নিজরন্ধ, নিজমুখে না কর প্রকাশ ॥ 
কিসের বাঁনরী-দেন। কিসের ধষণ । 
ভ্রিলেখক-বিজয়ী তুমি ভয় কি রাজন্‌ ॥ 
শোঁভে কি ককণ বাণী বলীর অস্থুখে । 
চতকার আর্তরব কুররের মুখে ॥ 


শক্ভিশেল | 


নানা দিকে নানা ভাব ভাঁবে নানা জন | 
প্রভুর কৰুণ দশ মহ! অলক্ষণ ॥ 
অপরূপ দশ1 এই হইলে লক্ষিত ! 
ধাজ-ববজি-রথ সৈন্য হইবে শঙ্কিত ॥ 
গৌরবে জননী সুখী দক্তে সেনা জন । 
কৌতুকে রমনী সুখী কহ্ছে সুধীগণ ॥ 
আদরে সৌঁদর সুখী দানে পরিজন ॥ 
বিপন্ন হেরিলে সুখী খল বৈরিগণ ॥ 
জরী জনে কখন কি পরাজর গণে। 
আঁবশর উঠিবে রবি নবান কিরণে ॥ 
এ দেখ মহারাজ গগন-সংসারে। 
চব্দরমী মলিন বেশে চলে পারাবারে ॥ 
বিগলিত কেশ-পীশ রজনা পলা । 
চকোর চকোরা তারা আগে পাছে ধায় ॥ 
এত যদি কহে সিদ্ধ প্রবোধ বচনে । 
ক্ষণক রাবণ রাজা চাহিলা গগনে ॥ 
সংবরিয়া শোকবেগ নয়ন-বষণ ॥ 
অপার আবেগে পুন কহিলা রাবণ ॥ 
এই সেই মলিন-কৌ সুদী রজনীরে । 
দেখিয়াছি পারাবার মন্দাকিনা-তারে ॥ 
দিবা বোধে কাক ডাকে থাকিরা থাকির। । 
চাকার চকোরা ডাকে গগনে উন্ডিরা ॥ 
সম্মুখে পর্গীর জল করে আন্দোলন ॥ 
নন্দন-কানন-বসা মলয় পবন ॥ 


পঞ্চম সর্গ । ৭১ 


অবলোল স্বর্ণ-পদ্ম সলিল-কম্পনে । 
চজ্দ্রমা চীতুরী খেলে লহ্রীর সনে ॥ 
আমি আর কুস্তকর্ণ ভাই ছুই জন £ 
চরবেশে নিশাযষেোগে করি সঞ্চরণ ॥ 

কি ব্ূপে ইন্দ্রের পুরা দহিব প্রভাতে । 
সন্ধানে সন্ধীনে ফিরি সম্মদখে পশ্চাতে ॥ 
নন্দনে রমণীরব শুনিবারে পাই । 

কে?তুকে চকিল মন ফিরিয়া! দাঁড়াই ॥ 
তক সহ কথা কাহে সহজে বিনতা | 
নিশাযোশে নন্দন বনের দেব-লতা ॥ 
স্বর্গের ন্দ্রমা এ কড় নহে হীন | 

বৈর'র সঙ্গমে পুরী হইল মলিন ॥ 

কি জানি প্রহরী জাগে অনর্থ ভাবিয়] | 
ছ্ায়া-পথে অলক্ষ্যে সন্ধান কর শিয়া ॥ 
মলিন কৌ মুদা এই সন্ধানীর মতে | 
সন্ধীন-তিমির নামে ঘুঘিবে জগতে ॥ 
মহাকুতৃহলে সেই ভাই মহাবীর । 

আদরে রাখিলা নাম সন্ধান-তিমির ॥ 
এই সেই মলিন সুন্দরী রজনীতে | 
ভ্রমিয়াছি পারাবার স্মণদী দেখিতে ॥ 
আজি সে তোমার তীরে আজি সে আবার । 
শুণীল-খুধিনী-কুল করে হাহাকার ॥ 
সুরীজ্ুর বক্ষ রক্ষ রহল সদরে | 

শৃ্গাল বানরে বিধি পাঁঠাইলা পুরে ॥ 


ণৎ 


শর্তিশেল। 


কে বুঝে বিধির এই বিপরীত শাপ। 
বড়তে জিনিতে নারে ছোটতে প্রতাপ ॥ 
বিপরীত বিধি এই আষিও শিখিব | 
বৰচিরা জিনিতে নারি মরিপনা জিনিৰ ॥ 
মরণের ভয় নই ভয় কিবিপাঁকে । 
দেখিব €দ বিধি বিষ যেখানে যে থাকে ॥ 
এই রূপে সকোপে শ্রলপে দশীনন । 
গভীর বচনে সিন্ধু কহিলা রাঁজন্‌ ॥ 
হিত উপদেশ কি বা কহিব তোনারে । 
পরম পশ্ডিত তুমি উরবন সংসারে ॥ 
তথাপি কিপ্দিৎ হিত কহিবারে পারি । 
ভবন সংসারে আমি প্রথম সংসারী ॥ 
ভাবিয়া তুমি দেব রামেরে সন্ধ্যাসী | 
সন্র্যা! কেমনে সেই রাক্ষস-বিনাশা ॥ 
সাতারে হরিয় ভুমি উল্তাসে ভাসিলে । 
পরমন্ত্র ষড়মীতি সকলি বিস্ম,লে॥ 
রিপ্ুবশে আপনা,বশ্বাসে পক্ষপাতি । 
পক্ষপণতে জ্ঞান হরে অজ্ঞীনে নিপাত ॥ 
আপন! বিল্ম.ত রাম প্রথিত ভুবনে । 
রামের মনের গতি বুকিবে কেমনে ॥ 
কেমনে বুঝিবে তার মহিমা অপার । 
সপ্ত সিন্ধু সদা খেলে উদরে যাহার ॥ 
আপনা ভঁলিয়া রাম ভাবে চরাচর । 
সংসার আপনা ভাবে জ্ঞানী ভাবে পর ॥ 


পঞ্চম সর্ণ | ৭৩ 


দেখিতে প্রমাদ ভাব সংগ্রামে অজয়! 
তুমি কি হে জীন না রামের পরিচয় ॥ 
অনায়াসে বনবাঁমষে আসিল বে জন। 
সামান্য ভাবক সেই নহে কদাঁচন ॥ 
অমোঘ-সন্ধীন যার ধনুকের বাণ । 
কেমনে তাহার মনে নাহি অবধান ॥ 
জান না আুজন গেই ভাই বিভীষণ | 
লঘু দোষে প্রতিবাদী হইলা কেমন ॥ 
কে বলে উদার এ অধোঁধ্যা-নিবাসী | 
সুগ্রীবে করিতে সখা বালীর বিনাঁশী ॥ 
সাধে কি ভরতে সেই রাজ্য সমর্পিল। 
অপার মন্ত্রণা তার কেহ না বুকঝিল ॥ 
জগতে সুষিবে যশ বাঁড়িবে বন্ধুতা | 
কৈকেয় রাজার দেশ ভুলিবে শত্রুতা ॥ 
অকাতরে তাই সে ভরতে রাজ্য দিয়া | 
সন্বযঠসী হইল বনে রমণী লইয়া ॥ 
ভুবিল সকল লোক মহা মন্ত্রণায় ৷ 
অপার বানরী-সেন1 হইল সঙ্থায় ॥ 
কার্যয-গুণে লোক তুষ্ট লোক তুষ্ট জয় । 
আপন সম্ভোষে জীব পর-বন্দী হয়। 
যার কাছে রছে যবে তুষিবে তাহারে | 
সেই সে প্রভুর ভার বহিবারে পাঁরে ॥ 
সকলে সমানে সদ) পারে তুষিবারে | 
প্রভৃই পরম দাস ভুবন সংসারে ॥ 

১৩ 


৭ 


শক্তিশেল | 


সন্তোষে প্রণয় হয় প্রণরে আদর । 
দশের আদরে জীব প্রভু জনেশ্বর ॥ 
প্রথমে রঞ্জিয়া লোক প্রভু হয় পরে। 
কবির কবিতা যফেন দিশীজয় করে ॥ 
প্রথমে পরের দীস পরে দাস পরে | 
দৈবিকী প্রভুতা এই খ্যাত চরাচরে ॥ 
অক্ষর প্রভুতা এই হুদয়-রঞ্জীন । 
পর-বল-পর-মন্ত্রহরণ-লাধন ॥ 

সর্ধবস্ম আপনি জীৰ করে সমর্পণ | 

এ আর বিষম চুর হৃদয় হরণ ॥ 

শত বলে কত-বল পরমন্ত্রঁমর | 
দৈবিকা প্রস্ুতা এই পরম ছুঙ্জ'র ॥ 
এই সে প্রারুত৷ বলে ব্রহ্মা মহেশ্বর । 
স্বর্গ মর্ত অধিকার করে চরাচর ॥ 
রাজ্য নাই মহার'জ ধন নাই ধনী | 
সন্্যাস' হইর1 গুহা প্রভু শিরোমণি ॥ 
বে জন প্রধান যবে তখনি তাহার? 
কার সঙ্গে নাহি বাদ মহেশ ব্রহ্মার ॥ 
ভুবনের বর তুমি রাজ। লঙ্কেশর | 
তাই সে তোমার ঘরে ব্রন্মা মহের্খবর ॥ 
পরম চতুর শিব বরিলা তোমারে । 
দেবের শঠতা কেহ চিনিতে না পারে ॥ 
সময়ে ককণা করে সমরে নিপাত | 
রাআীর হহতে রাজ করে লাতায়াত ॥ 


পঞ্চম সর্গ 1 প৫. 


কৈলাসে শিবের বাঁস তুমি বালী দুরে । 
বিরিা্চি বসতি করে অমরের পুরে ॥ 
বৎসরে কখন দেখা হয় কি না হয়। 
দূরত্বে শিথিল হর দেবেরো প্রণয় ॥ 
শিব শিবা বিরিঞ্চির প্রির পুরম্দর | 
একেরে ছিৎসিয়া তুমি আরে কর পর ॥ 
বথায রাজার সেবা সচিবে লঙ্মিয়! | 
শিবের করিয়া পূজা নন্দীরে হিং নিয়া ॥ 
বে ডাকে যখন দেব তাহারি তখনি । 
দৈবিকী প্রভুতা লেই ভুঁবন-রঞ্তিনী ॥ 
একেরে করিতে হিত আরে করে আর। 
বিশ্বীস বিচার কেথ! মহেশ ব্রন্ধীর ॥ 
তোমারে বরিবে বরে বাসবে বরিবে | 
যে বরে স,জন করে সে বরে নাঁশিবে ॥ 
চলমতি চলচিত্ত মহা ভোলা নাথ । 
কাহারে কখন্‌ করে বিজয়-সনাথ ॥ 
তাই ত তোমারে বলি শুন সাবধানে । 
জয়াজয় দেখ যত আপনার বাণে। 
ভুজ-দর্প-বলে তুমি জিনিলে ভুবন | 
ভুঁজদর্প-বলে তাহা! করিবে রক্ষণ | 
ধনুকে করিবে ভর কারে না সাধিবে। 
আপন পুৰকষকীরে আপনা রাখিবে ॥ 
কাজ কি পুজনে আর কথায় কিকাজ। 
পোকষী গ্রভৃতা এই অহে মহারাজ ॥ 


শ্ভীশৈেল | 


সাধে কি শঙ্কর! শিবে করি আমি গালি। 
নগরের কালী কেন শ্মশীনের কালী ॥ 
আমারে কহিল কটু মৃতমাংসাশিনী | 
1 রে আরে কপালিনা কুলকলঙ্কিনী ॥ 
কাজ কি কাঁলীরে আর কুটিল কৌশলে । 
মন্দির ফেলিয়! দাও সাগরের জলে ॥ 
অথব? কালীরে তুমি সংবর এ বার । 
সংগ্রামে এ বার যদি দেখা পাও তার ॥ 
আসিব কহিল সেই কালিকাঁর রণে। 
ভয়ে স্বোক ভাবে সেক আসিবে গোপনে ॥ 
অবশ্য রামের কাঁণে উঠিবে সংবাদ | 
অনায়ধসে কালী রামে ঘুষিবে বিবাদ ॥ 
রাজ-নাতি মহাঁকুট মহা! চমৎকার । 
অরিতে নাশিবে অরি সেই সুবিচার ॥ 
এভ যদি কছে সিন্ধু চাহিয়া রাবণে। 
ধীরে ধীরে পুর-দেবী কে সম্বোধনে ॥ 
অভাগা জননী অমি কি আর কান্দিয়া । 
সাগরের কথা বাপ শুন মন দিয়া ॥ 
দেখিলে আমার দশা আপন নয়নে ॥ 
যা হয় উচিত বাপ ভাব মনে মনে ॥ 
সুরান্থুর নাগ নর বিদ্বেষী তোমার । 
দেখো রে লঙ্কার এই সেনার সংসার ॥ 
কি দোষে তদোষিণা আমি শিবের চরণে । 
শঙ্করী হুইল সখা আমার মরণে ॥ 


পঞ্চম সর্গ | ণএ 


কেন বা রামের সঙ্গে সাধিলে বিবাদ ॥ 
এ আর সিন্ধুর কুলে ঘটিল প্রমাদ ॥ 
দহিল সোনার পুর দাকণ দহনে । 
পরনারী-নয়ন-গরল-হুতাঁশনে ॥ 

তাই ত তোমারে বলি অরে নৈকষেয় । 
পর-নারী পরিসর হইবি অজেয় ॥ 
রাজনীতি সার এই ভুবনে প্রকাশ | 
জিতের পড়নে হয় জয়ের বিনাশ ॥ 
আর এক কথা বলি শন সাবধানে | 
দাও সে রামের সীতা থাক নিজ মানে ॥ 
একের প্রভুতা যদি করিলে স্বীকার | 
অনারাসে স্বর্গ মর্ত রে অধিকার ॥ 
তবে সে রামের তুমি কর আরাধন। 
সংলারীর এই রে নিয়ম সনাতন ॥ 
একের হইয়া দস শাসিবে সংসার | 
ইন্দ্র শচী দান দাসী হইবে তোমার ॥ 
সামান্য লসুত। এই কেহ না গণিবে। 
যে জন গণিবে তারে রাজ-দণ্ড দিবে ॥ 
এই রূপে সংসার হইবে পুন বশ ! 
ভয়ে হোক ভাবে হোক ঢাকিবে অযশ ॥ 
অথবা ককক যে করিবে উপহাস । 
পরের কথায় জয়ী না করে বিশ্বাস ॥ 
বিবম রংমের শরে ভয় নাই যাঁর । 
পরের কথায় এত ভয় কেন তার ॥ 


৮ 


শক্ভিশ্েল | 


অপবাদে ভয় কর উপহ্ণসে নয় | 
ত্যাজিলে রামের সীতা নিন্দা দর হয় | 
উপহাস নিজ জনে না করে কখন । 
যে করে সে অরি তারে করিবে শাসন ॥ 
এত ষদি প্ুরদেবা কছে হিত ভাষ ! 
কহিলা রাবণ রাজা ত্যজিয়া নিশ্বীন ॥ 
যা তুমি কহিলে ম! গো শুনিলাম কাণে ! 
অন্তর বধির মৌর রাঘবের বাণে ॥ 
গেল ভাই কুম্তকর্ণ গেল মেঘনাদ 1 
কার তরে বাঁনরে কহিব চাট্রবাদ ॥ 
কত বার কত ভাঁব করি আমি মনে | 
চু বাণী না! জানিলে না সরে বচনে ॥ 
ভাঁবি ষে রামের আমি করি সভবজন | 
লিংছনাদ তথাপি বদনে বিসজ্জন ॥ 
ভাব বে রামের সীতা না রাখিব ঘরে | 
সুর্পনখা নাসা মন তবু না ধিল্মরে ॥ 
কেমনে ড্রলিব সেই বন্য হনুমান । 
দিনে ছুই প্রহরে দহিল পুরীখান ॥ 
অথবা সকলি আমি পারি ভুলিবারে । 
কেমনে করিব সন্ধি কহ মা আমারে ॥ 
বরঞ্চ তোমার কোলে সমরে মরণ | 
সন্ধির গরল তরু নব সে জীবন ॥ 
রামের হাঁদিতে দেবি নাহি আসে যায় | 
ছংসিবে স্াষেণ বুড়া পড়িয়ণ শয্যায় ॥ 


পথঃম সর্গ | ৭৯ 


ঘবমাঁনে হনুমান কছিবে ডাকিয়। | 
পদ সেবা কর মোর মন্দোদরী দিয়! ॥ 
মস্তকে বহ্ছিয়! সীতা দাও অযোধ্যায় | 
সম্মান কর রে তুমি খষি দেবতাঁয় ॥ 
তবে ত যুচিবে সেই রণের পিপাসা। 
আবার কাটির দাও ভশিনীর নাসা ॥ 
জানি সে দরান্ু রাম বাঁনর-মণগ্ডলে । 
সেনাপতি সুলিবে সেনার কৌলাহলে ॥ 
সচিব-কৌশলে আর সেনার মায়ায় । 
সেনানী সকল কথা শুনিতে না পর ॥ 
এত যদি কহলা রাবণ 
বিদায় বচনে দেবী করিলা রোদন । 
যাইতে বান? নাই আবার ফিরিয়া চাই 
আবার বিদশযর় দীও অরে সুবদন ॥ 
একাঁকিনী অকুল পাথরে 
অধাঁনীরে দেখো গো সাগর | 
তোমারি ভরসা গাই তোমারি ভরসা চাই 
ভোমার শরশ।গত আমি এ কান্তাঁরে ॥ 
ধারে ধীরে রজনী পলার । 
মন্দোদরী কর্ন্দে কেন শুনিবারে পাই । 
অহ্ে আমি গৃহমুখে যাই ॥ 
জয় জয় পারাবার রাবণের সাখ-সার 
কুক্তীর মকর তিমি লবণীম্ব, ধাঁয় ॥ 
ইতি সিন্ধুরাবণসংবাদ নাম পঞ্চম সর্গ । 


বন্ঠ সর্গ॥ 


পপ পপ, ক 


এখন রজনী আছে যাও সে রাজার কাছে 
কোকিলার কথা তুমি শুনো না শুনো না। 
ওশো শশী করে ধরি যেয়ো না ষেরো না ॥ 

বৈনরে বারণ করি রাণী আমি মন্দোদ রা 
যে ভোমাঁর বন্দী বেশ মোচনের তরে । 
কত সাথে দীঘি বিধু রাজা লঙ্কেশ্বিরে ॥ 

ভাল ঘরে বার মাস যতনে দিয়'ছি বাস 
উপকার না মানিলে কি বলিব আর ॥ 
সহজে তোমার শশী কলঙ্ক অপার & 

অথবা দেবের কোপ সহজে না যার লোপ 
অরি-বধু ভাবিয়া যদি না দয়া হয় । 
কাঁতরের কথা শশা হেলিবার নর ॥ 

চির দিন রাজ-রানী কারে না বিনয় জানি 
কারে না! সাধনা করি বিনা লঙ্কেশখবর । 
সে আমি তোমারে সাঁধি অহ শশধর ॥ 

এ হেন যামিনী শেষে পঁরাবার-ভীর-দেশে 
অবলার যাইতে নিষেধ বুঝি নাই ॥ 
তুমি বা দাড়াও বিধু আমি নিজে যাই ॥ 


যন্ঠ সর্গ | ৮৮৯ 


কোথা সে ভুবন-ম্বীমী: উন্মাদ ভীবি যে আমি 
কেন সে হদর-দেব পুরীর বাহিরে । 
কেন সে প্রাণের মাখ পাঁরংবাঁর-তীরে ॥ 

কেন রে নয়ন তোর চারি দিকৃ ঘন ঘের 
কেন রে পোঁনার পুরী মহাশন্য-মরী । 
আর রে কোথায় বাপ পুরন্দর-জয়ী ॥ 

তেখমা বিনা গতি নাই সংসারে শুনিতে পবই 
শৈশবে বাপের ঘর বরসে পতির । 
চরমে নারীর গতি সন্ভীন-শ্শিবির ॥ 

গহন গহ্বরে আর জলনিধি পারাবার 
সসাগরা ধরা তলে নাহি সমাচার ॥ 
অঞ্চলের নিধি মোর কেন নিরাকার ॥ 

সঙ্কটে দৃষণ-প্ুরে  কারাবাসী রে দলে 
পিতা মাতা প্িয় জনে ভাবে সছুপার় ॥ 
আমি যে কোথার ভাবি তুমি যে কৌথার ॥ 

নয়নে তিমির-ময় অস্তরে ভাবনা হয় 
তিমির-ভবানে তুমি রহ রসাতলে | 
গহ্ৰারে গহনে বিলে জলধির জলে ॥ 

নিদাঁকণ রাজ-কমি চিনিতে নারিলে তুমি 
ত্যজিল সকলে তোমা জলধির তীরে ॥ 
অকালে কঠিন প্রাণ ত্যজিল শরীরে ॥ 

আমারি ঈর্ষরার তরে সীতারে অধনিলা ঘরে 
কেন বাঁ আমারি স্থাতে পাঁঠাইলা রণে । 
কহিৰ দাঁকণ আমি রাজ। দশ্শননে ॥ 

১১ 


৮২ 


শর্িশেল | 


শুনিতে পরম নাম রাঁজ-রাণী রাজ-াম 
কে জানে রাজার ঘরে কেহ কার নয় ॥ 
কে জীনে রাজার মনে এত কথা হয় ॥ 
জায়] স্থৃতে মায়াহীন পর-চচ্চা-বিমলিন 
চিত্তীভোগ-পরিহীন হসিত অধরে | 
আপনা বঞ্চনা করে আপনার তরে ॥ 
করে ভাঁবে কারে চার. অধ উর্দে। কেন চার 
সদখই বিমনা মোর পতি লঙ্কেশ্বর । 
জন্মিয়া কখন সুখ না দিলা শঙ্কর ॥ 
ধিক আর রাজ-ঘরে এ বার জননা স্তরে 
জন্মিব পতির সহ শবরের ঘরে । 
তেমারে আবার বাঁপ ধরিক উদরে ॥ 
বাগুর। বিশিয়া করে তুমিব কৌমার-হরে 
তুলিয়া তোমারে দিব কাঁননের কল। 
অজিনে মুছিরা দিব নয়নের জল ॥ 
হরিণী শিশুর সনে ভ্রমিবে বিজন বনে 
অআখদারে দীদিবি-ধান! করিয়া চর্বণ ॥ 
যতনে বান্ধিয়া দিব বাসিত ব্যঞজন ॥ 
পিঠারে মাসর নিয়া কলসে সলিল দিয়। 
শরাবে পূরিয়া তোমা দিব হরিতক। 
আদরে কুটার-ছ্বারে দিয়া কিলিঞ্জক ॥ 
পতি সম্ছ নঙ্গেপনে বরঞ্চ বিজন বনে 
বর ভতনর-কোলে কলম্ব-সেবন । 
এ ছেন সেনার থলে নহি আকিঞ্চন ॥ 


বন্ঠ সর্ণ | ৮৩ 


না চাহি সমন্দর আর পরিবাদ পরদর 
ন। চাহি সিন্ধুর কূলে কনকের ঘর । 
যেখানে মনের সুখ সেই স্ুনগর ॥ 
এ সে সিন্ধুর জলে পতি সহ কুতুহুলে 
উড়ুপ বাহিরা যায় ধীবরের মেয়ে । 
আমি এ রাজার রাণী পথে কান্দি চেয়ে ॥ 
পতি নে সমর করে তনয় মমরে মরে 
কে শুনে আমার বাণী আমি পাই ব্যথা | 
বরঞ্চ ধাঁবর শুনে ধীবরার কথা ॥ 
চির দিন অবরোধ সুখ শান্তি নাহি বেধ 
ভঁবণ-শুগ্বল-ভাঁরে অলস-গাঁমিনা | 
নীমেতে রাজার রাণা কাজেতে বন্দিনী ॥ 
রাজ-চিন্তা রাজ-নাতি  পতির পরম নীতি 
সভরে বিষুখী সদ? নহি আলাপিনী | 
লহজে বিরহ-দশ? তাহু্'তে সতিনা ॥ 
পরোপরি জয়াজয় কখন নিজের নর 
পরেরি গৃহিণী সদা পরেরি অধানী | 
কে জানে অবলা-বোনি কেন যে গর্বিণী ॥ 
পতি করে পরদার আমি সহি গ্ালি-ভাঁর 
আমারে বন্দিনী যত বলে পুত্রহতী | 
এ দিকে সতিনা-জ্বীল। ও দিকে ছুর্গাতি ॥ 
আমি ত রাজার রাণী ভাল মন্দ নাহি জানি 
গালি দের তরু তাঁর] দর মায়! নাই । 
সভয়ে বন্দিনীপুর নিকটে না যাই ॥ 


৮ 


শত্িশেল | 


কেমনে এমন ঘরে অবলা বসতি করে 
আমি যে জীবন ধরি ধরি কথঞ্চিৎ | 
প্রমীলা কেমনে জীবে অরে ইন্দ্রজিৎ ॥ 

কেন বা অকালে তুমি বিশ্দিলে সংগ্রাম-ভূমি 
সহজে কোৌমল-তম্ু তুমি ষে আমার | 
দাকণ কুলিশ সেই রযু-কুলাঙ্গার ॥ 

পরম। রাক্ষনী সংতা শাশুড়ী হইল ভীত! 
মিলির? দেবরগণ বনবীস দিল । 
অভাগী আমারি ঘরে আমির জুটিল ॥ 

চা।র দিকে পারাবার হাহাপূর্ণ ধূমাকার 
এ কুল ও কুল নাই প্রথিত সংসারে | 
কেমনে গিরাছ তুমি পৃথিবীর পাঁরে | 

একাকী রাজার শিশু অরি তাহ বিজিগীম্ত 
সভয়ে সাগরে তুমি দিলে সম্তরণ । 
আমারো চরম দশা জলধি-সেবন ॥ 

গমনে অস্গুখ নাই বদি সে দেখিতে পাই 
বদ সে কমল মুখ পুনকপাগ্ত | 
তুমি বে গিয়াছ বাপ জন্মেরি মত ॥ 

কর ঘরে কার দ্বারে ম] বলিয়া চাহ কারে 
কে সহিবে শিশুকাঁলে তোমার বিলাপ । 
তুমি যে সোনার থাল ভাল বাস বাপ। ॥ 

কে তোমা জননা রূপে বাসনার অনুব্ধপে 
ক্ষণকে নুতন বাঁস পরাইর়1 দিবে । 
ভুমি যে বসন-সুখী সহিতে নারিবে ॥ 


বন্ঠ সর্ণ | ৮৫ 


কে আর ভোজন ম্বুখে মা বলিয়। মহা সুখে 
কহিবে আমারে কখা বিবিধ সংবাদ । 
কহিবে রাজার সহ দেবের বিবাদ ॥ 

এই সে শরনণগাঁর কাঞ্চন ভূষণ-ভার 
কেমনে হেরিব আমি কেমনে সহ্িব ! 
যে দেশে গিয়াছ তুমি সেই দেশে দিব ॥ 

বে দেশে রহিবে তুমি. সেই সে কনক ভুমি 
আমি এ দহুন-পুরে রহিতে নারিব | 
আমি এ এমন ঘরে জলাঞ্লি দিব ॥ 

যোশিনা হইব আমি তাজিব ভবন স্বামী 
ভ্রঘমিব তোমার তরে গহনে কান্তারে । 
ফুবিব লঙ্ক'র আমি মহাপারাবারে ॥ 

ঘে দেশে তোমার বান সেই দেশে বার মাস 
শশ্ি-তারা দিনমণি করিবে প্রকাশ । 
হইবে লঙ্কার ঘরে তিমিরের বাস ॥ 

হুইল বংশ্শের শেষ তথাপি সমর-বেশ 
দেখিব লঙ্কার পতি কত মায়া জানে । 
দেখিব কেমন সুখ রাঘবের বাণে ॥ 

চির দিন অভিলাষ পরভর্ত,-সহবাস 
যেমন ভগিনী সেই স্রপনখ। দেবী 1 
তেমনি শুণের ভাই পরদার-সেবী 11 

এই রূপে কহে রাণী কৰকণ পৰুষ বাণা 
নরনে অৰুণ রাগ মনের অখগুনে ॥ 
বদনে লবণ বারি বহে মায়া গুণে ॥ 


৮৬ 


শক্তিশেল । 


কবরী খসির! যায়. সকলি উন্মীদ প্রায় 
সহজে পরমা সতী মহা তেজন্িনী | 
অভয়ে সাগর-তীরে চলে তরন্তিনী ॥ 

ওীঁথমে ককণ বাণী. অনুধায় ঘছারখণী 
প্রথমে কুপুর'বাণী পরেতে নুপুর । 
সহস। আলোৌক-মরী জলধির পুর ॥ 

অদূরে পৃতনা-পুরে সেনাপতি ভর়াতুরে 
ডাকির! প্রহরী জনে কছে সমীচখুর । 
সহসা হুইল দেবী পরিখার পর ॥ 

কে শুনে কাহার বাণী ঝটিতি পলার রানী 
জাহ্ুবী সমাঁন ব্ূপ ফিরিয়ী না চায় | 
অদরে রাবণ রে সাগরের পায় ॥ 

শরীরে কিরণ সরে নরনে অনল ক্ষরে 
কে জানে কোপনা বুঝি অভিশাপ করে | 
সভায়ে রাবণ রাজ ধরে বাম করে ॥ 

রছ রহ মন্দোদরী তোমারে প্রণাম করি 
ভুমি সতী আমি পাঁপী রাজা দশানন । 
তোমারে গণতি আমি করি সে কারণ ॥ 

জগতে ঘুবিবে সতী গঁণতি করিল পতি 
সুবিবে তোমারি কথা ভারত ব্রবন | 
আমার নুতন নহে রমনী-বন্দন | 

যে সতী পরমা সতী তারে নমে সাধু-মক্তি 
আমি যে অসাধু নিজে জানি চরাচরে । 
আম নমি যে সতী পতির নিন্দা করে ॥ 


যক্ঠট অর্গ | ৮৭ 


আর কি জীবন বে দয়িতা মরণ যাঁচে 
সতী সাধে পতির সমরে নিপতন । 
আয় রে যরণ তোরে করি আলিঙ্গন ॥ 
ভগিনীর বুথ! দেব না ভাব রামের রোৰ 
আমি কি রামের চেয়ে অভ্যাঁচীরিতর | 
সে যে কাঁটে নারী-নাসা আমি নারা-হর ॥ 
এই কি উদার নীতি ত্যজ্য়। ধন্মশ রাঁতি 
কেমনে ম'সুষ সেই হাসির? হাসির | 
কাটিল জাবিত নাস। ভিন্দিপাঁল দির? ॥ 
পরম দোৌবিণী জামি আমি দোষী জীনি আমি 
তথাপি রীমের এই অতি অহঙ্কার | 
কংটিলে সাঁতার ন$ংসা কেমন বিচার ॥ 
রধক্ষপী বলির! তার দর না হইল আর 
আমি বা মীজুবী জনে কেন দর করি ॥ 
কহ না! নারব তুমি কেন মন্দোদ্রী ॥ 
স্বজ'তির পরাজৈর জীবনে বদ্যপি সর 
কি সুখে লঙ্ক'র তবে কনকের ঘর। 
কেন বা পুরার পারে পরিখা সাগর ॥ 
বরঞ্ তনয়-হ:ন কাননে ভমিব দ.ন 
বরঞ্চ রামের শরে নগরার নান্শ | 
নপুন অধীন ভাবে পর-থুছে বাস ॥ 
সাধে কি বংশের নাশ করি আমি অভিলাষ 
সাধে কি তনয়ে আমি সমরে রা | 
পর করে পুঁজা-পুরা দিতে সাথ নাই । 


৮৮৮ 


শক্তিশেল । 


দহিব নগর বাস করিব বংশের নাশ 
আপনি আপন পুরী দিব ছার খর | 
' দেখিব কি সুখে রাম করে অধিকার ॥ 
হইলে তনয় ক্ষ  জ্ঞাতিতে বিষর লর 
হইলে জ্বঞাতির ক্ষয় গুক জনে লয় | 
বৈরীরে নগর দান কভু জিদ্ধ নয় ॥ 
রজা আমি লঙ্কেশ্বর শঙ্কা করে পুরন্দর 
ইজ্দরণী আমারে পুজা করিবারে চার | 
সন্যলী হইবে প্রভু এযে মহা দার ॥ 
কেমনে থাকিব দাস রাঁম-ঘরে বার মাস 
কেমনে হইবে তুমি সীত1-সহচরী | 
কাজ কি অধান পতি অছে মন্দোদরি ॥ 
নব নব অভিলা'ব রমণীর বার মাস 
কেমনে অধীন পতি পুরাইতে পারে | 
পতি যদি অপাঁরক কি সুখ সংসারে ॥ 
আমি যদি রণে মন্রি কেন ভাব মন্দোদতি 
তোমারে করিবে দয় রাঁম দয়াময় | 
আমি এ জীবিতে পুন কড়ি দয়! নয় ॥ 
আমি যদ্দিবন্দীহই রাঘবের ঘরে রই 
কত বে বানরা-কুল লচিঘিবে তোমারে | 
কেমনে করিব রক্ষা বল না আমারে ॥ 
অধানে রক্ষিতে নারে. শ্রক্তুী কে বলিবে তারে 
দাঁরে না পখলিতে পারে সে কি পতি পতি । 
নরনে সদীই জল দে বড ছুর্গতি ॥ 


যন্ঠ সর্শ | 


ব্যাকুল রামের শরে কে বলে সীতাঁর তরে 
সমর বাসনা করি অবমি দীন হীন | 
আর কি আমার আছে বিলাঁসের দিন ॥ 
তুমি কি জীন না সতি আমি না পকষ-মতি 
কখন তোমারে আমি করি না বঞ্চিত | 
তবে যে $বরিণী হরি সে ষে রখজনীত ॥ 
শশবরে ঘেরেলে পরে ব্যাকুল প্রাণের তরে 
শ্‌্দ,ল পলায় বনে ত্যজিয়। শশীকৃত । 
আমিও ত্যজিতে সীত। চাহি সম্শহ্কিত ॥ 
তবে যে ধনুক ধরি সে কেবল মন্দোদরি 
রাজমান মহাামান রাখিবাঁর তরে | 
ঘুচিলে দেহীর মীন বৃথা কলেবরে ॥ 
আপনি আপন বাণী কেমনে লঙ্িবে মানী 
অথমে সকল লোকে তবাষণা করিয়া | 
কেমনে সীতাঁরে আমি দিইবা ফিরিয়া ॥ 
ঘোষণা করিবে বাঁহা হুউক হুক্ষর তাহা 
তথাপি কখন তাহা নাহি বিলভ্যঘিবে | 
লভিঘলে প্রভুর মান কভু না রহিবে ॥ 
জিনিরাছি দশ লোক মরণে কিসের শোক 
কেন বা নমিব আমি রাঘবের কাছে । 
পারি বা না পারি তান্ছে বীরত্ব ত আছে । 
ভুবনে সকলে অরি মিছ? ভাব মন্দোদরী 
বিষম ভুর্ভেদ এই অমর-মান্ত্রণা | 
কেবলে রামের এই একাকী কস্পনা ॥ 


টি 


শস্ভিশেল । 


বিরোধী সকল লোক আজি ছোক কালি হোক 
অবশ্য মরিৰ আমি অমরের করে। 
বরঞ্চ মরণ ভাল রাঘবের শরে ॥ 
যেদিকে যখনচাই কারে না দেখিতে পাই 
সমর আমার সেই পরম শরণ । 
হয় ত বিজয় রণে নয় ত মরণ ॥ 
দেখিব বানর-স্বামী দেখিব কেমন আমি 
করিব সমর-তলে অক্ষ নিক্ষেপণ । 
হয় ত ভূবন-লীভ নয় ত মরণ ॥ 
হৃদয়ে প্রবোধ কর পরিতাপ পরিহুর 
বীর-ম'তা তুমি দেবী বিদিত বিশেষে । 
কি জুখ বীচিলে স্থৃত পরবান দেশে ॥ 
বিনয়ে বারণ করি ঘরে যাও মন্দোদরি 
কেন বা রোদন তুমি কর পতিব্রতে । 
সকলি নশ্বর এই পিনাকীর মতে ॥ 
এত ষদ্ি কহে পতি  পতিরে বিম্ুখী সতী 
বদনে বিগত বাণী পুন যাঁয় ঘরে। 
সাগরে বিস্ুখী নদী উন্ছঠাসের ভরে ॥ 
কছিলে শোকের কথা হৃদয়ে না হয় ব্যথ! 
প্রণাম করিলা পতি হিতে বিপরীভ । 
একে ত পরম শোক ভাছে সশঙ্কিত ॥ 
সমরে নিরত-মতি না শুনে বচন পতি 
আখমি এ আপনি যরি আপনার শোকে । 
সম-্ুখ-শেোক লোক নাহ্ছি ভব-লোকে ॥ 


বন্ঠ সর্গ। ৯১ 


প্রভাত হইল নিশ] শশী দেশে যার 
আমিও অভাগী যাই আপনার ঘরে | 
তুমি কি আমীর চেয়ে ভাব কুমুদিনী 
তুমি ভাব দিনে আম দিন দিনান্তরে ॥ 


হেস না হেন ন! তুমি ওগো! কমলিনি 
চির দিন না রহিবে পতির প্রতাপ 
আমি সে তেমন হাসি আর হাসিব না 
বড় ঘরে বড় জ্বাল! বড় পরিভাপ ॥ 


এই রূপে মন্দোদরী ভাবিতে ভাবিতে 
বেষ্টিত কিস্করী-কুলে চলিনা ভবন । 
ভামিল সহআ-কর মহানীল জলে 
তর্জ্িয়া পৃতনা-পুরে বিশিলা! রাবণ ॥ 


ইতি মন্দোদরী -বিলাঁপ নাম 
বষ্ঠ সর্গ। 


সণ্ডম সর্থ। 


অদূরে বাঁহিনী-কুল জীগ্ে চারি দিকে 
ভিন্দিপশল করে ধায় দশমুণ্ডধর । 
জাশিল গম্ভীর রবে অষ্টাদশ পুরী 
সিংহুনাঁদ করিয়া কহিলা লঙ্কেশ্বর ॥ 


কেন কেন কেন অরে অরে ভিন্দিপাল 
মানুষের সমরে হইলি দিক্‌ হারা । 
অরাতি-নিপাঁতে তোর কই সে নিশ্চয় 
কই তের কাল-কঠে কধিরের ধারা ॥ 


জাগ জাগ জাগা অরে অরে বাহুবল 
আরে রে মন্দর-চিরি-মহ'পরাক্রেম । 
ঘেরিল পশ্চিম দিক্‌ রিপু-জলধিতে 
কেন না মন্থনে আজি কর অভিক্রেম ॥ 


মনে কি পড়ে না সেই কৈলাসের চূড়া 
তর্জ্ঞয়! বিজয়-মদে তুলিলি যাঁহারে | 
কোন অভিমানে আজি সন্ধ্যধসী বাঁনরে 
তজ্জ্িবে তোদের এই পারাবার-পারে ॥ 


সপ্তম সর্গ। ৯৩ 


তুমি কি রামের বাণ সহিবারে পার 
আরে রে পর্ধত-মাথী মহা বক্ষঃস্থুল। 
কেন রে বনির1 তবে পুরী-কারাগারে 
সম্মখ সংগ্রামে দল বানরের দল ॥ 


মনে কি পডে নব! সেই দত্ভে!লির নাদ 
মন্দাকিনী-তটে সেই বাসবের পুরী ॥ 
কই সে বিজয় তেজ অরে সৈন্যগণ 

কই সে কন্দর-ভেদী বিজয়ের তুরী ॥ 


এখন ঘোটকী করে ক্ষুর কও, য়ন 
বল্গিত খেলিতে চায় সংগ্রাম-নগরে ! 
এখন আলান দেশে ঘর্ষে দন্তভাগ 
রণ-মত্ত করি-নবথ সংগ্রামের তরে ॥ 


জাগ জাঁগ জাগ অরে অরে যেোধগণ 
লঙ্কার আকাশে এ বিজয়ের রবি । 
এখনি পশ্চিম দিক্‌ হইবে নিস্তমা 
বৈরীর বিজয়-সোঁম হইবে নিশ্ছবি ॥ 


এ শুন এ শুন কলকল নাদ 

এ রে লঙ্কীর দ্বারে অহমহমিকা | 
ধিক রে পিঞ্জল-কুল ধরিয়া জীবন 
সংগ্রামে বাঁনরী-চমু হইল অধিক) ॥ 


এ পারে সিংহল দেশ ও পারে ভারত 
মধ্যেতে বিশাল এক বহে পারাবার | 


নদ 





শক্তিশেল । 


কোথা এ লঙ্কীর পুর কোথা লে কোশল্‌ 
কিসের সম্পর্কে রাম করে হুঙ্কার ॥ 


কেন সে আনিবে সীতা পঞ্চবটী বনে 
পঞ্চবটী বনে তার কিসে অধিকার । 
আমারি অধীন সেই দক্ষিণের বন 
লভ্ঘিবে আমার দেশ হেন সাধ্য কার ॥ 


আমারি বাঁচীর দীস রয়ুবংশ-পিতা 
রাম সে দাসের দীস কে চিনে তাহারে । 
সীতা ষে ভাঙ্বারি নারী কিসের প্রমাণ 
মিছা! গণ্ডগোল তার সমুদ্ধের পারে ॥ 


আমি যে রাক্ষল-পতি রাম যে মানুষ 
তাঁর সঙ্গে আমার কিসের অন্ুুহীর ৷ 
আমি যে খাদক তার সে যেখাদ্য হয় 
সে কেন সংগ্রাম ষাচে এ কি সমাচার ॥ 


সনণত্তি সতীর্থ নয় নহে কুটুম্বক 

বাস্কিপ সাগর সেই কাহীর আদেশে । 
কোন অপরাধে সেই পীড়িল প্রজারে 
রাক্ষষের প্রজা সিন্ধু জানে না বিশেষে ॥ 


মর্কট অভাব নাই পঞ্চবটী বনে 

প্রস্তর 'অভাধ নাই দ্রাবিড় কর্ণবটে ' 
সহজে উত্তান-বেগ পশ্চিম সাগর 

ডাই সে বাস্কিল সেতু সিংহলের ঘাটে ॥ 


টি -- ূ চাও র 
প 


ক.